Home আঞ্চলিক বেহাল রাস্তা, নেই ড্রেনেজ ও সড়কবাতি তবু তার পরিচয় পৌরসভা

বেহাল রাস্তা, নেই ড্রেনেজ ও সড়কবাতি তবু তার পরিচয় পৌরসভা

2

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।


নিয়মিত কর পরিশোধ করেও প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না পৌরসভার বাসিন্দারা। দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পরও সেবার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কবাতির তীব্র সংকটসহ নানা সমস্যায় নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এখানকার মানুষদের।


ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার চিত্র এটি। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাসের এই পৌরসভাটি ২০২২ সালে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১২ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় নাগরিক সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল।

জানা গেছে, এত বড় এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ২ কিলোমিটার, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। একইভাবে, পুরো পৌরসভায় যেখানে এক হাজারের বেশি সড়কবাতির প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১০০টির মতো।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ সড়ক ভেঙে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ে, তেমনি বর্ষা মৌসুমে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কিছু এলাকায় ড্রেন থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত কর দিই, তার কোনো প্রতিফলন পাই না। রাস্তায় চলাচল করা যায় না, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।’

আরেক বাসিন্দা রোজিনা খাতুন বলেন, ‘রাত-বিরাত চলাচল করতে খুবই অসুবিধা হয়। অনেক এলাকায় অন্ধকারে থাকতে হয়। এ কারণে এলাকায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে।’

হাসপাতাল মোড় এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধুলাবালির কারণে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারাও আসতে চায় না।’

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। আশা করছি দ্রুতই আমরা পৌরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করতে পারব।’