Home আঞ্চলিক শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

0

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহন শেখ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানায়, মনোহরপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম সাদাত ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ চৌধূরীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে সাদাতের পক্ষে ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য সের আলী এবং আবু জাহিদের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান দুলাল এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। উভয় পক্ষই এলাকায় দেশীয় অস্ত্রের মহড়া শুরু করে।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের অভিযোগ, বুধবার রাতে সাদাতপন্থী সমর্থকরা পাশের লক্ষীপুর গ্রামে সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে মশিউর সমর্থক লিটন খায়ের ওপর হামলা চালায়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সের আলীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহন শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন মহন শেখসহ অন্তত ৩০ জন। পরে তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আব্বাস মোল্লা, ছালামত আলী, সাকিল হোসেন, মিল্টন খন্দকার, আসাদ বিশ্বাস, বসারত হোসেন, জমির বিশ্বাস, ফরিদুল শেখ, ওয়াসিম বিশ্বাস, মিন্টু হোসেন, আসাদুল বিশ্বাস, পিকুল হোসেন, আসিক শেখ, বিপ্লব বিশ্বাস, হৃদয় হোসেন ও আমিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ চৌধূরী অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, “গতকাল রাতে আমাদের সমর্থক লিটনের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। এর জেরেই আজ সকালে আবার হামলা চালিয়ে মহন শেখকে হত্যা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম সাদাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম দাবি করেন, “এটি সামাজিক সহিংসতা, এর সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

নিহতের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই সকালে দোকানে চা পান করতে যাচ্ছিল। এ সময় সের আলীর সমর্থকরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।”

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।