Home জাতীয় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের ঘটনা

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের ঘটনা

106

ঢাকা অফিস।।

তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভিডিও কলে আপত্তিকর ছবি ধারণের পর তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণের ঘটনা যেন বেড়েই চলছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রশাসন বলছে, প্রতিদিনই এমন অভিযোগ পাচ্ছে তারা। এমন ঘটনায় লোকলজ্জায় আত্মহত্যাও করছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু মামলা নয়, দরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ।

প্রযুক্তির অপব্যবহারে সম্প্রতি বেড়েছে সাইবার অপরাধ। যার ভুক্তভোগী বেশিরভাগই নারী। ভুক্তভোগী এক নারী কাজ করতেন ঢাকা মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে। যে বিভাগের প্রধান ছিলেন ডাক্তার আজিজ। তার অভিযোগ, বাসায় ডেকে তার ওপর শারীরিক নিপীড়ন চালায় আজিজ। মোবাইলে ধারণ করেন আপত্তিকর ভিডিও। যা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেন আরও কয়েকবার।

ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, আমি তার বাসায় প্রবেশ করে কাউকে দেখতে পাইনি। পরে আমার সঙ্গে আজিজ ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ বিষয়ে আমি যদি মেডিকেলে অভিযোগ করি অথবা কাউকে জানাই অথবা আইনি কোনো পদক্ষেপ নেই, তাহলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়েছে। এগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, নিজ ঘরেও যেন অনিরাপদ নারী। রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে কাজ করেন আরেকজন ভুক্তভোগী। তিনি জানান, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করেন স্বামী সুলতান। না দেয়ায় তা ছড়িয়েও দেন স্বামী।

 

এই ভুক্তভোগী বলেন, আমার তাকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। যদি না দেই বা ছেড়ে দেই অথবা আইনি কোনো সহায়তা নেই, তাহলে আমার ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলা করেন তারই এক নারী সহকর্মী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির এমন খবরে আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আবেগপ্রবণ হয়ে সাধারণত এমন ঘটনাগুলো ঘটে। তবে একজন ম্যাচিউরড নারীর এমন ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। এছাড়া শিক্ষিত, মডার্ন মেয়েও দেখা যাচ্ছে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হচ্ছে। এমন ধারাবাহিক অপরাধ সমাজে আরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। শুধু মামলা নয়, বিচার না হলে তা আরও বাড়ার শঙ্কা তাদের।

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে অনেক মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলা যদি বিচার পর্যন্ত না যায় তাহলে তা সমাজে কোনো দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ তৈরি করবে না।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও দুর্বল মুহূর্তের ছবি দিয়ে কৌশলে প্রতারণা করার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ থাকলে থানায় বা ডিবি অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রেমঘটিত সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সারাদেশে গেল বছর আত্মহত্যা করেছে অন্তত ৫১৩ শিক্ষার্থী।