ইশতিয়াক পারভেজ।।
৪৪ ওয়ানডেতে ৩০.৫৮ গড়ে ১২৫৪ রান করেছেন ৩ সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে। এনামুল হক বিজয়ের এই পারফরম্যান্স খুব খারাপ বলা যাবে না। বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিবেচনা করলে এই পারফম্যান্সে সুযোগ মিলতেই পারে জাতীয় দলে। শুধু তাই নয়, দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৯৩ ম্যাচ খেলে ১৮ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৩৪টি ফিফটি হাঁকিয়েছেন বিজয়। প্রবেশ করেছেন দেশের ৬ হাজারি রানের ক্লাবেও। তার এই পারফরম্যান্সও দারুণ বলা যায়। কিন্তু এরপরও এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ৩২ জনকে নিয়ে যে ক্যাম্প ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সেখানে নেই এই টপঅর্ডার ব্যাটার!
২০১২ তে অভিষেকের পর থেকে বিজয় ২০১৫ পর্যন্ত খেলেছেন জাতীয় দলে। এরপর তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। ফিরেছেন ২০১৮ তে। সবশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন গেল বছর ডিসেম্বরে।
এরপর তার আর সুযোগ হয়নি। কিন্তু কেন নেই তিনি। জানা গেছে তিন কারণে তাকে জাতীয় দলে আর বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবি’র একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘বিজয় কেন নেই সেটি বললে অনেক কিছু বলতে হবে। যদি পারফরম্যান্সের কথা বলি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ভালো করেছে। এমন পারফরম্যান্স করে আগেও জাতীয় দলে ফিরে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। দ্বিতীয় কারণ ও এখন আর জাতীয় দলের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার নয়। আরেকটি কারণ বলতে পারেন শৃঙ্খলা ভঙ্গ, হ্যাঁ এ শব্দটিই ব্যবহার করতে চাইছি। ব্যাখ্যা দিতে গেলে হয়তো কঠিন কিছু বলতে হবে।’
গতকাল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে এশিয়া কাপকে সামনে রেখে ক্যাম্প। প্রথমদিন এসেছিলেন ২০ ক্রিকেটার। এদিন সবাইকে দিতে হয়েছে মেডিক্যাল টেস্ট। আজও একই কার্যক্রম। আজ ক্রিকেটারদের স্ট্রেন্থ টেস্ট করা হবে। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস আহমেদ। তাকেও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ষ্পষ্ট করে জানিয়েছেন সিদ্ধান্তটা আসলে নির্বাচকদের।
শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘দেখুন কাকে (বিজয়) ডাকা হবে এবং কাকে ডাকা হবে না এটা নির্বাচকদের দায়িত্ব এবং আওতার মধ্যে পড়ে। এই ব্যাপারে আসলে আমি কিছু বলতে পারব না এবং বলতে চাচ্ছি না। নির্বাচক প্যানেল ক্রিকেট অপসের আন্ডারে একইরকম আমিও অপসের আন্ডারে। যার যার দায়িত্ব ওভাবে ভাগ করা আছে যে যার দায়িত্ব সে সেভাবে পালন করবে। দল নির্বাচনের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নির্বাচক প্যানেলের। তারা কোন ক্রিকেটারকে কখন নেওয়া হয়, নেওয়া হয় না এই ব্যাপারে তারা প্ল্যান করেন তাই তারা বলতে পারবেন।’
প্রশ্ন যখন বিজয়ের বাদ পড়ার তখন পারফরম্যান্স নয় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ভিন্ন। জানা গেছে সম্প্রতি তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতই কর্ম ঘটিয়েছেন। যা বিসিবি কর্তারা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তবে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। বিসিবি’র একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুধু পারফরম্যান্স থাকলেই হয় না। তার অনেক কিছু আছে যা বিসিবি’র কর্তারা ভালো ভাবে নেয়নি। আর সেই কারণেই তাকে হয়তো জাতীয় দলে দেখা যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে জাতীয় দলের ফেরার লড়াইয়ে মাঠে কঠোর অনুশীলন করছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত তিনি এশিয়া কাপের স্কোয়াডে থাকবেন কিনা তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে গতকাল দেশে ফিরেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। পিঠের ইনজুরির চিকিৎসা শেষে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। তারও দলে আসা নিয়ে আছে নানা গুঞ্জন। তবে দু’জনকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, ‘আমি মেডিক্যাল এক্সপার্ট না। তামিমের কন্ডিশন কী সেই রিপোর্ট আমার পড়ে দেখা হয়নি। এই ব্যাপারে আসলে ডিরেক্টলি বলতে পারব না। একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় হিসেবে বলতে পারি ইনজুরির কারণে একজন খেলোয়াড়ের ফিরে আসাটা কখনও সহজ আবার কখনও কঠিন হতে পারে। আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব একজন ক্রিকেটারকে শতভাগ সাপোর্ট করা যাতে তারা তাড়াতাড়ি রিকোভার করতে পারে। তামিম আমাদের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার, রিয়াদ আমাদের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সবসময় সহযোগিতা করা, এটা কোচের মাধ্যমে হোক, প্র্যাকটিসের মাধ্যমে হোক যেভাবেই হোক। আমরা তা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা সেটা করব।’











































