Home আঞ্চলিক টাকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পারাপার হতে হয় রূপসা ঘাট,নেই কোন নাগরিক সেবা

টাকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পারাপার হতে হয় রূপসা ঘাট,নেই কোন নাগরিক সেবা

20

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ।।
রূপসা নদীর তীরে খুলনা অবস্থিত।নদীর পশ্চিম পাড়ে পশ্চিম রূপসা ও পূর্ব পাড়ে পূর্ব রূপসা অবস্থিত।রূপসা ঘাট হতে অতি জরুরি ভাবে পারাপার হওয়া যায়। ৭ ঘন্টায় পারাপার হওয়া যায় রূপসা ঘাট ট্রলার যোগে। রূপসা ,ফকিরহাট, মংলা, বাগেরহাট, রামপাল, পিরোজপুর, মোরলগঞ্জ, বরিশাল বিভাগের কিয়দংশ বাস, মিনিবাস, মাইক্রো ও প্রাইভেটকার, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল যোগে বিভাগীয় খুলনা শহরে আসে কেউ আসে চিকিৎসাসেবা,বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবা,কেউ আসে কোর্টের(দেওয়ানী/ফৌজদারী) বিচারিক সেবা,কেউ বেড়াতে আবার কেউ মার্কেটিং কাজ সারতে আসেন।অন্যদিকে যশোর,সাতক্ষীরা, নড়াইল,মাগুরা,ঝিনাইদহ, খুলনা শহরের অনেকের রূপসা নদীর পূর্ব দিকের জেলা বা উপজেলাতে প্রবেশের সহজতম পথ। প্রয়োজনীয় জরুরি কাজ,অর্থ অপচয় ও সময়ক্ষেপন রোধে রূপসা নদী পার হয়ে গেলে সবগুলোই সহজে পাওয়া সম্ভব।

সব কিছু সহজ ভাবলেও রূপসা ঘাট পার হতে গেলে একটু বেগ পেতে হয়।ঘাটের পল্টনে পৌছাতে প্রথমে গ্যাংওয়ে দিয়ে যেতে হবে।গ্যাংওয়ে দীর্ঘদিন পানি ও মানুষের চলাচলে ক্ষয় হয়ে ভংগুর ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।পিকআওয়ার ও সন্ধ্যার পর পারাপারের যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়।

বিগত দিনে কয়েকবার পত্রিকার পাতায় সমস্যা তুলে ধরা হলে লোক দেখানো কয়েকটা ছিদ্র ঝালাইয়ের সংস্করণ করা হয়।কিছুদিন পর ঝালায়োর পার্শ্ববর্তী স্থানে আরো বড় বড় ভগ্নাকৃতি দেখা যায়।সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকায় প্রায়শই ছোট থেকে মাঝারি আকারে দূর্ঘটনার কবলের শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

প্রতিদিন গড়ে এই ঘাট থেকে ২৫ হাজারের বেশি যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে।জন প্রতি ১ টাকা টোল আদায় দিতে হয় যাত্রীদের।হাতে যদি কোন মালামাল বা ব্যবসায়ীক পণ্য থাকে তাহলে ২০-২০০/৩০০ টাকা পর্যন্ত টোল দিয়ে পার করতে হয়।আর যারা টোল আদায় করে তাদের ব্যবহার অনমনীয়। অনেক যাত্রীর অভিযোগ রয়েছে টোল আদায়কারী কর্মীদের বিরুদ্ধে।

রূপসা ঘাটের ট্রলারে উঠা আর মেট্রো রেলে উঠা প্রায় একই রকম হয়ে দাঁড়িছে।কোন নিয়মশৃঙ্খলা নেই। যে যেভাবে পারছে সে সেইভাবে ট্রিপ মারছে।যাত্রী বোঝাই ট্রলার ছাড়বার আগে অন্য দিক দিয়ে যাত্রী নামানো ট্রলার এসে ধাক্কা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে।যদি পল্টনের এক দিক থেকে পার হওয়ার ট্রলার থাকে, শুধুমাত্র সেই দিক থেকে ট্রলার পার করবে।আর পল্টনের অন্যপাশে নদী পার হয়ে আসা যাত্রী নামার ব্যবস্থা করলে সমস্যা তেমন হয় না।কিন্তু ভিআইপি,সিআইপি ও অতিরিক্ত ট্রিপ ও কমিটির ট্রিপ এগুলি করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা ও ঝক্কিঝামেলা থেকেই যায়।ঘাট টি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রলারে জনপ্রতি ৩ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর ঠিকই জনপ্রতি ৫ টাকা করে আদায় করা হয়। যাত্রীরা কথা বললে তাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে, তাই যাত্রীরা সম্মান নষ্টের ভয়ে কথা বলেনা।প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর পারাপারের যাত্রীদের সাথে ট্রলার মাঝিদের বসচা হয়। ছোট ট্রলারে ২৫ জন ও বড় ট্রলারে ৩০ জন যাত্রী নেবার কথা থাকলেও চিত্র ভিন্ন দেখা যায়।ছোট ট্রলার ৩৫ জনের কম নয়, লোকের বাইরে ট্রলারে ২/১ টি মোটর সাইকেল ও ২/১ টা সাইকেল থাকে।এতে করে যাত্রীদে চলন্ত ট্রলারে দাঁড়াতে ও নড়াচড়া করতে খুবই বিব্রতবোধ অবস্থায় থাকে।

অপর দিকে বড় ট্রলারে ৩০ জন যাত্রী পারাপার করার অনুমতি থাকলেও ৪৫ জনের অধিক যাত্রী নিতে দেখা গেছে।এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে রূপসা উপজেলা প্রশাসনের কয়েক দফায় অভিযান পরিচালিত হয়। কয়েকবার জরিমানা আদায় করা হলেও।২/১ দিন পর আবার পূর্বের চিত্র চোখে পড়ে।তাই যথার্থ মনিটরিং করে বিষয়টির সমাধান চায় সাধারণ পারাপারের যাত্রীরা ও এলাকার সুশীল সমাজের মানুষেরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান আশা করছে ভুক্তভোগী যাত্রীসমাজ।