সাতক্ষীরায় র্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১
স্টাফ রিপোর্টার
সাতীরা জেলার আশাশুনি থানাধীন প্রতাপনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন সাতীরা জেলার আশাশুনি থানাধীন প্রতাপনগর গ্রামের শহর আলী মোড়লের ছেলে মো. মনজুরুল আলম মনজু (৪৪)।
র্যাব-৬ জানায়, সাতীরা জেলার আশাশুনি থানাধীন প্রতাপনগর গ্রামে সাতীরা জেলার আশাশুনি থানাধীন প্রতাপনগর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে
সাতীরা (সিপিসি-১) এর একটি আভিযানিক দল। এসময় ৫১ পিস ইয়াবাসহ মনজুরুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিল ডাকাতিয়ার কৃষকের ধান কেটে দিলেন ভাইস চেয়ারম্যান দম্পতি
আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি
করোনার প্রভাবে দেশব্যাপী ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ঠিক সে সময়ে কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ফেরদৌসি নিশা ও তার স্বামী আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নবিরুল ইসলাম রাজা বিল ডাকাতিয়ার কৃষকদের পাকা ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। বৃহস্পতি বার নির্বাচনী ওয়াদা সাধারন মানুষের পাশে থেকে সেবা করার প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নে দরিদ ্রকৃষক মো. বাবুল হোসেনের সাড়ে ৩ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন তারা।
শিরোমনি গ্রামের কৃষক বাবুল বলেন, বিলডাকাতিয়াস্থ সাড়ে ৩বিঘা জমির বোরো ধান পেকে যাওয়া শর্তেও করোনা ভাইরাসের কারনে ধানা কাটা শ্রমিক পাইনি তিনি। ফলে ধান ক্ষেতেই নষ্ট হবার উপক্রম। বেড়ে গেছে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি এ দিকে জমিতে ধান কাটার ও উপযোগি হয়ে পড়েছে। এমন কি বেশি টাকা দিয়ে ধান কাটার সক্ষমতাও নেই আমার। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ফেরদৌসি নিশা এ বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তার স্বামী প্যানেল চেয়ারম্যান রাজাসহ এলাকার কিছু সংখ্যক উদ্যামি তরুনদের বৃহস্পতিবার ভোরেই আমাকে সংবাদ দিয়ে ধান ক্ষেতে হাজির, বিকাল ৪ টার মধ্যে ধান কেটে মাথায় করে বাড়িতে পৌছে দেয় ।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ফেরদৌসি নিশা বলেন, দেশের এ দুঃসময়ে আমরা প্রতিদিন বিভিন্নস্থান থেকে অসহায় মানুষের ত্রানের চাল চুরির খবর পাই যেটা কষ্টদায়ক, তিনি আরও বলেন, কৃষকরা করেনার প্রভাবে শ্রমিক সংকট থাকায় ধান কাটতে পাড়ছেনা, জনপ্রতিনিধি হলে সাধারন মানুষের আমাদের কাছে চাওয়া পাওয়ার কিছু থেকে যায়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে এলাকার যুবক ভাইদেরকে সাথে নিয়ে আমরা পর্যায়ক্রমে ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে এ রকম দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দেবার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এ দিকে এ দুই জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকান্ড দেখে এলাকাবাসী তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অসহায় কৃষকের পাশে খুলনা জেলা ছাত্রলীগ
স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসে কারনে শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে অসহায় কৃষক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতে যে যার স্থান থেকে করোনাভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন থাকায় অসহায়, মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর অনুপ্রেরণায় খুলনা জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অসহায় কৃষকের পাশে দাড়িয়েছে। খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে এক ঝাঁক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বটিয়াঘাটা উপজেলা ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এর কৃষক ইশারত হোসেন এর জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমিরুল মুমিনিন রানা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভির রহমান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি নাজিব, সহ-সম্পাদক রাকিব মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম আবিদ হাসান ফাহিম প্রমুখ।
মেয়র এ্যাড.মনিরুল হক তালুকদার
মোড়েলগঞ্জ পৌরসভায় কোন পরিবার না খেয়ে থাকবে না
এম.পলাশ শরীফ,মোড়েলগঞ্জ:
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌরসভা মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার বলেছেন, বিশ্বের সকল মানুষ এখন করোনায় আতঙ্কিত। করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করছেন। প্রতিটি মানুষের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। মোড়েলগঞ্জ পৌরবাসির জন্যও বরাদ্দ পেয়েছি। এই মুহুর্তে সে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয় তার পরেও কোন পরিবার না খেয়ে খাকবে না। শুক্রবার সকালে প্রেস কাবে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌছে দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মনিরুল হক তালুকদার নিজ উদ্যোগে মোড়েলগঞ্জ প্রেস কাবে কিছু মাস্ক, স্যানিটাইজার ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার (জরুরি খাদ্য সহায়তা) প্রেস কাব সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মাসুম এর হাতে তুলে দেন। তিনি করোনায় কর্মহীনদের ঘরে সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়ার জন্য সংবাদকর্মীদের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, প্রয়োজনে সংবাকর্মীদের মাধ্যমেও খাবার পৌছে দেওয়া হবে। কেউ না খেয়ে থাকবেনা। পৌর মেয়র আরো বলেন, পৌর সভায় প্রতিটি কর্মহীন অসহায় পরিবারকে খুঁজে বের করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। চালু রয়েছে টিসিবি,ওএমএস, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তার অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। শীঘ্রই চালু করা হচ্ছে রেশন পদ্ধতিও।
ফকিরহাটে বেতাগায় করোনা প্রতিরোধে বিশেষ সভা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে শুক্রবার বেলা ১১টায় আসন্ন রমজান মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে করণীয় সম্পর্কে সকল মসজিদের সভাপতি, সম্পাদক ও ইমামদের নিয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ পারভীন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রহিমা সুলতানা বুশরা, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মোঃ খায়রুল আনান ও শুভদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল ইসলাম। এসময় উক্ত সভায় বেতাগা ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও ইমামগন উপস্থিত ছিলেন।
ফকিরহাটে নলধা গভীর রাতে গৃহকর্তা উত্তমকে কুপয়ে জখম
বাগেরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের নলধা গ্রামে গভীর রাতে ঘরের গ্রীলের তালা ভেংগে ভেতরে প্রবেশ করে সুপারী ব্যবসায়ী উত্তম কুমার দাম (৬১) কে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কি কারনে গৃহকর্তার উপর হামলা চালানো হয়েছে তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ধারনা করছেন ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা আসে কিন্তু প্রতিহতের মূখে পালিয়ে যায়। ঘর থেকে কিছু নিতে পারেনি বলে জানায়। তবে পুলিশ বিসয়টি খতিয়ে দেখছেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শব্দ টের পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তখন বাড়ীর গৃহকর্তা উত্তম কুমার দামের সাথে তাদের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দা দিয়ে হাতে কোপ দেয়। এতে তার বাম হাতের একটি আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। ঘটনাটি বেগতিক দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আহত উত্তমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বিষয়টি ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ অবহিত করেছে উক্ত ভুক্তভোগী পরিবার। উত্তম দাম নলধা গ্রামের মৃত কিরন চন্দ্র দামের পুত্র।
ফকিরহাটে ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে কৃষক লীগের সেচ্ছায় ধান কর্তন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস দূর্যোগের কারনে কৃষকদের ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে বেতাগা এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে কৃষক লীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে ধান কাটার শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাছরুল মিল্লাত ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ। জানা গেছে, বেতাগা ইউনিয়ন কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ ধান কাটার একটি দল গঠন করে স্বেচ্ছায় বেতাগার কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার লক্ষ্যে ধান কাটছেন। বেতাগা ইউনিয়ন আওয়ামী কৃষক লীগের সভাপতি দিনোবন্দু ও সাধারন সম্পাদক মোঃ ইনসান শেখের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ধান কাটায় অংশগ্রহন করেন।
মাহে রমজানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় টিসিবি পন্য ক্রয়ে উপচে পড়া ভিড়, মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব
সাতক্ষীরি প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় টিসিবি পন্য ক্রয়ে মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার সকালে শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্কে টিসিবি পন্য ক্রয়ের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে সাধারন মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিসিবির পন্য ক্রয়ের জন্য ৩ ফুট দূরত্বে বাঁশের বেঁড়ার মধ্য দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে পন্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তারপরও এই বাঁশের বেঁড়ার বাইরে করোনার ঝুকি নিয়ে বহু নারী-পুরুষ এক জায়গায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে টিসিবি পন্য ক্রয়ের জন্য। এর ফলে আইন শৃংখলার বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সামাল দিতে হিমশিম খান।
মামলা মিথ্যা প্রমানিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : ওসি এজাজ শফী
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা থানায় দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ প্রমানিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন ওসি মোঃ এজাজ শফী। মিথ্যা মামলার জট ঘুচাতে তিনি এ ঘোষনা দিয়েছেন। শুধু তাইনয়, কারোর নামে এমন মামলা করলে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বাদীর বিরুদ্ধে- ২১১ ধারার বিধান মতে ব্যবস্থা নিলেও সে সব পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষনা দেন তিনি। জানা গেছে, পাইকগাছা থানায় যোগদানের ১ মাস কর্মদিবসের পর এলাকার সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণের পর এ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে এই প্রথম খুলনা বিভাগের মধ্যে পাইকগাছা থানায় মাদক মামলায় কয়েক যুবককে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠিয়ে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ যথেষ্ট সাড়া ফেলে দিয়েছে এলাকায়। তিনি যোগদানের পর থেকে অত্র থানাকে মডেল হিসাবে দাড় করাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় থানার শিক্ষানবিশ পিএসআই পুলিশ কর্মকর্তাদের ফৌজদারী আইনের ধারা-উপধারা সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
পুর্বসূরিদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলে ওসি মোঃ এজাজ শফী থানাকে দালাল মুক্তর ঘোষনা দিয়ে এ প্রতিনিধিকে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় পুলিশী সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী হবার কোন সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জনসেবার কাজে কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নির্ভয়ে ওসিকে জ্ঞাত করানোর কথা বলেছেন ভুক্তভোগী মানুষের। এতদসংক্রান্তে থানার ইন্সপেক্টর (ওসি) তদন্ত আশরাফুল আলম জনান, এখন থানায় অভিযোগ, জিডি বা মামলা হলেই সঙ্গে-সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে যাচ্ছেন এবং কি পদক্ষেপ নিলেন তা ফলোআপের আওতায় আনা হচ্ছে। থানা পুলিশের এমন কর্মকান্ডের সুফল ইতোমধ্যে জনগন পেতে শুরু করেছে। পুলিশের ভিতরে সচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষে এসব নিয়ম চালু করেছেন ওসি এজাজ শফি।
এছাড়া পুলিশ সদস্যদের নিয়ে থানার অভ্যন্তরে পরিস্কার পরিছন্নতা বজায় রাখা সহ থানাকে পরিবেশবান্ধব সৃষ্টি করতে প্রতিদিন কাজ করে চলেছেন তিনি। জানাযায়, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা মতে দায়িত্ব পালনের বিরামহীন চেষ্টায় নিয়জিত রয়েছেন এখানকার পুলিশ সদস্যরা। তিনি আরোও জানান, করোনা মুহুর্তে বিভিন্ন স্থানে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে দু’পক্ষকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এ মুহুর্তে থানায় মিথ্যে মামলা নেই বললেও চলে। এলাকায় মাদক-জুয়া বাল্য বিবাহ সহ যে কোন অপরাধ প্রবনতা প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা ।
অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিল কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগ
কয়রা প্রতিনিধি
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাদারণ মানুষ। বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবীরা। করোনা ভাআরাস ঠেকাতে জেলায় জেলায় চলছে লকডাউন। এক প্রকার ঘর বন্দি জীবন যাপন চলছে। কয়রায় ভাটা থেকে আসা শ্রমিকদের চলছে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন। কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ঘরে বন্দী থেকে তারা এখন অসহায়। এ বন্দীদশা থেকে কবে মিলবে মুক্তি কেউ বলতে পারছে না। এরই মধ্যে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। লকডাউনের কারনে শ্রমিক সংকটে পড়েছে। তবে ধানের ফলন ভাল হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে বেশ কিছু যাবত। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও এমপি বাবুর নির্দেশ মতে এই সংকটকালে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাড়িয়েছেন অসহায় এ সব কৃষকের পাশে। ফলে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ সরে গিয়ে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি। ফসলের মাঠ থেকে ধান কেটে কৃষকের বাড়ী পৌছে দিয়েছেন তারা। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধান কেটে দেয়ায় এসময় আমাদী ইউনিয়নের নাকশা গ্রামের কৃষক আয়ুব আলী মোড়ল আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন শ্রমিক সংকটের কারনে পাকাধান কাটতে পারছিলাম না। এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক আছে মজুরি বেশি। আকাশের অবস্থা মাঝে মাঝে খারাপ হচ্ছে। বড় ঝড় হলে ধানের ব্যপক ক্ষতি হবে। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তারা কোন টাকা পয়সা ছাড়াই ধান কেটে দিতে রাজী হন। ছাত্রলীগের ছেলেরা যে ভাবে আমার ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা ভোলার নয়। কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি এবং ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কয়রা পাইকগাছার এমপি আলহাজ্ব মোঃ আকতারুজ্জামান বাবুকে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাজিবুল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে একঝাঁক নেতাকর্মী নিয়ে কৃষকের ২ বিঘা ধান কেটে দেন। এর পর ধান গুলো কৃষকের বাড়ী পৌছে দেন। তার এমন ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাজিবুল ইসলাম রাজু বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভাটা থেকে আসা এলাকার শ্রমিকরা না আসায় বিপাকে কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারনে অনেক অসহায় কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং এমপি বাবু ভাইয়ের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের ধান কাটার কাজ শুরু করেছি। তারা আরও বলেন এই করোনা মহামারিতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের পক্ষে শ্রমিকের মজুরি দেয়া কষ্টসাধ্য। আমাদের পক্ষ থেকে ঔসব কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগামীতে কৃষকদের এ সহযোগিতা অব্যহত থাকবে। যে কোন কৃষক শ্রমিক সংকটে যদি ধান না কাটতে পারে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সেই কৃষকদের ধান কেটে বাড়ী পৌছে দিয়ে আসব। আর এই কাজের জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রস্তুত আছে। এসময় ছাত্রলীগের শরিফ জেওয়ানুজ্জামান, মামুন, মেহেদী হাসান শুভ, আব্দুল্লাহ আল মামুন,আজিজুল, ওহিদুজ্জামান ও তাইফুর সহ অনেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফুলতলায় বিএনপির খাদ্য সহায়তা প্রদান
ফুলতলা প্রতিনিধি
দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ফুলতলার দামোদর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার বেলা ১১টায় করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন, অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সহসভাপতি এসএ রহমান বাবুল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, আহসানুল হক লড্ডন, শেখ আঃ সালাম, ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা নান্না, প্রয়াত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর স্ত্রী জুবায়দা খান সুরভী, পুত্র জুবায়ের সরদার সামী, বিএনপি নেতা কাজী আনোয়ার হোসেন বাবু, জামাল হোসেন ভুইয়া, শেখ মহিউদ্দিন, আক্তার হোসেন, মোঃ ইদ্রিস আলী মোল্যা, তুষার মোল্যা, টিটো জমাদ্দার, জাহিদুর রহমান লাভলু, বিপ্লব গাজী, আঃ রহিম গাজী, কে এম ওহিদুজ্জামান, আবুল হোসেন, আসাদুজ্জামান জুয়েল, আলমগীর শেখ, আবির হোসেন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ফুলতলায় দামোদরে ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত
ফুলতলা প্রতিনিধি
ফুলতলার দামোদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শীতপাশাডাঙ্গায় স্কুল মাঠে এক ওয়ার্ড সভা ইউপি সদস্য মিসেস কেয়া খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু। স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য শেখ আঃ রশিদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, মনিরুল ভুইয়া, প্রদ্যুৎ বিশ্বাস, বিজয়কৃষ্ণ হালদার, সুমন সরদার, ইকতিয়ার উদ্দিন সুমন, কচি ভুইয়া, মোঃ আবজাল মিনা, রমজান আলী মিন্টু, খান তরিকুল ইসলাম, মোঃ ইয়াছিন মোল্যা, আশরাফুল আলম তুহিন, আঃ লতিফ. নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন প্রমুখ। পরে ২১ সদস্য বিশিষ্ট খাদ্য সহায়তা কমিটি গঠিত হয়।
ফকিরহাটের লখপুরে মাসিক উন্নয়ন কমিটির সভা
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাসিক উন্নয়ন কমিটির সভা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় পরিষদ মিলনায়তনে অনুৃষ্ঠিত হয়েছে। লখপুর গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন এর সভাপতিত্বে ও ইউপি সচিব প্রসুন কুমার দাশ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শেখ আহম্মদ আলী, ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, মোতালেব মোড়ল, বজলুল রহমান মোড়ল, বিল্লাল হোসেন মিলন, আরিদ হোসেন, রেজাউল করিম, ফিরোজ খান, মহিলা সদস্যা তাসলিমা বেগম লতা, শিল্পি বেগম, বাজার সমিতির কোষাধক্ষ মধু সুধন ঘোষ ও ডিলার মোঃ সেলিম শেখ। সভায় বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা ও করোনা প্রতিরোধে সরকারের দেওয়া ত্রান সমগ্রী স্বচ্ছতার সাথে বন্ঠন করার উপর আলোকপাত করা হয়।
বেতাগা কালিবাড়ি মন্দিরে খাদ্য সামগ্রী বিতরন
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটের বেতাগা সর্বজনীন কেন্দ্রিয় কালিবাড়ি মন্দিরে গীতা অনুশীলন চক্রের উদ্যোগে অসহায় দুস্থ্য ও গরীবদের মাঝে খাদ্য সমগ্রী বৃহস্পতিবার বিকালে বিতরন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সদস্য পরিতোষ চক্রবর্তী, সুজয় দাশ, বিধান দাশ, শিক্ষক নিখিল চন্দ্র দাশ ও অমর দাশ সহ বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে ৯০জন ব্যাক্তিকে চাল ডাল তেল লবন ও আলু বিতরন করা হয়।
দেবহাটায় অসহায় পরিবারের উপার্জন বন্ধ সহযোগিতা প্রদানের আবেদন!
কে এম রেজাউল করিম
দেবহাটায় অসহায় পরিবারের উপার্জন বন্ধ সহযোগিতা প্রদানের আবেদন, ভ্যান চালিয়ে সংসার নির্বাহ করত আমার স্বামী। কিন্তু ৪ বছর আগে আমার স্বামীর ক্যান্সার ধরা পরে। চিকিৎসার পেছনে খরচ করে সব শেষ হয়ে গেছে আমাদের। স্বামীর চিকিৎসা আর পরিবার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে নেমে পড়তে হয় কর্মের সন্ধানে। শ্রমিকের কাজ করে কোন কিছু ঠিকমত চলত না। তাই ঠিক করি একটা চা দোকান দেব। ঈদগাহ বাজারে একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসার পরিচালনা করতে থাকি। তাতে খুব বেশি লাভ না হওয়ায় চায়ের সাথে আলুর চপ, বেগুনি, সিংড়া ইত্যাদি ভাজা বিক্রয় করতে শুরু করলাম। তাতে কোন রকম সংসার চলতে থাকে। এভাবে চলতে চলতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে সারাদেশ লকডাউন করে দেওয়া হয়। এতে বন্ধ হয়ে গেছে আমার চায়ের দোকানটি। আমার অসুস্থ স্বামী এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে আমার দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা খাব কি? কি করে চলবে আমার সংসার। আমার ২টি ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে। তাদের মুখে কি তুলে দেব। এই পরিস্থিতিতে আমাদের তো অনাহারে মরা ছাড়া কোন উপায় নেই সামনে। জানি না আর কত দিন এই পরিবেশ থাকবে। দু-চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগঘন মনে নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের মাঘরী গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত আব্দুল গফ্ফারের স্ত্রী। তার কাছ থেকে আরো জানা যায়, বর্তমান করোনা পরিস্থিতে সরকারি বে-সরকারি সংস্থা খাদ্য সামগ্রী প্রদান করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোন সহায়তা। তাই প্রশাসনের সু-নজরের পাশাপাশি হৃদয়বান ব্যক্তিত্বদের এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতনমহল।
দেবহাটায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে মাংস বিতরন করলো ছাত্রলীগ
দেবহাটা প্রতিনিধি
দেবহাটায় পবিত্র রমজান উপলক্ষে মাংস বিতরন করলো ছাত্রলীগ। উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তৌহিদ হোসেন এবং দেবহাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আহছান উল্লাহ কল্লোলের উদ্যোগে তাদের ব্যক্তিগত তহবীল থেকে এ মাংস বিতরন করা হয়। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে অসহায় মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে এ কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহন করে ছাত্রলীগ। শনিবার সখিপুর ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের ২০টি অসহায় পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে পরিবার প্রতি ৫শ গ্রাম করে মাংস বিতরন করেন।
চলতি মাস স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান বাগেরহাটের আক্রান্ত মসজিদের ইমাম করোনামুক্ত
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৫ বছর বয়সী মসজিদের ইমাম করোনামুক্ত হয়েছেন। বৃহষ্পতিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন পৌছেছে বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। গত ১৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাগেরহাটের চিতলমারীর ওই ইমামের শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়। ওইদিন স্থানীয় প্রশাসন ইমামের বাড়িসহ পাশের তিনটি বাড়ি অবরুদ্ধ ঘোষণা করে। ইমামই ছিলেন বাগেরহাটের প্রথম কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, গত ১৫ এপ্রিল চিতলমারীতে মসজিদের এক ইমামের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়। এরপর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল। তিনি এখন সুস্থ্য স্বাভাবিক রয়েছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর দুই দফা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার ল্যাবে পাঠানো হয়। পরপর দুটি পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা ভাইরাসের প্রতিবেদন নেগেটিভ হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষার প্রতিবেদন আমরা হাতে পেয়েছি। ফলে তিনি এখন ভাইরাসমুক্ত। বাগেরহাট জেলা থেকে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে ১১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। এরমধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়। বাকিরা সবাই করোনামুক্ত। বাগেরহাট জেলায় সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই চলতি মাসটা বাগেরহাটবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করার আহ্বান জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত. গত ৯ এপ্রিল ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলা থেকে বাগেরহাটের চিতলমারীর গ্রামের বাড়িতে ফেরেন এই ইমাম। জেলার বাইরে থেকে আসায় গত ১১ এপ্রিল স্বাস্থ্য বিভাগ তার বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার ল্যাবে পাঠানো হয়।
রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে খুলনা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা
ফুলতলা প্রতিনিধি
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ বলেছেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) এর বিস্তার রোধ কল্পে উপস্থিত সকল অফিসার ও ফোর্সেদের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন হাট বাজার,স্কুল কলেজ, ব্যাংক, স্বর্ণের দোকান বন্ধ থাকায় সন্ধ্যার পর হতে বাইরে জনসমাগম না থাকায় এসকল প্রতিষ্ঠান গুলিতে খুন, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে। সেজন্য সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সভাপতি ও সেক্রেটারিদের সাথে আলোচনা করে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, বণিক সমিতির সদস্য, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য ও গ্রামপুলিশের সমন্বয়ে সকল স্থানে রাত্রিকালিন পাহাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীদের রাত্রিকালীন ডিউটি মনিটারিং করতে হবে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে যাহাতে দ্রব্য মূল্যর দাম বৃদ্ধি না পায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান। পবিত্র মাহে রমাজানে যাহাতে কেউ খোলা জায়গাতে খাবার ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয় করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফুলতলা থানা এলাকায় সকল চায়ের দোকান বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মুলক বক্তব্য প্রদান করেন।
খুলনা জেলাধীন ফুলতলা থানার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে থানা চত্ত্বরে এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিন) আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি-সার্কেল সজীব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) ওয়াসিম ফিরোজ, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা থানাধীন দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ শিপলু ভূইয়া, জামিরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল বাশার ও ইউপি সদস্যগন এবং ফুলতলা থানা পুলিশের সকল অফিসার ও ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
রমজানে দ্রব্যমূল্যের সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহবান ইসলামী আন্দোলনের
খবর বিজ্ঞপ্তি
পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রতি বছর বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে এ মাসটি মুসলমানদের নিকট হাজির হয়। রমজান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। এ মাসে মুসলমানগণ আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করে। এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে পরবর্তী ১১ মাস যাতে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি সহকারে চলতে পারে সে চেষ্টাই করে থাকে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে অতি মুনাফা লাভের আশায় বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করে। তাছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে আমাদের দেশের মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ে ঠিক সেভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় না। রমজানকে সামনে রেখে প্রতি বছর পণ্যের দাম বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। রমজান শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা সত্যিই দুঃখজনক। এবার যেন ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য ক্রয় করতে পারেন সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রাখা খুবই প্রয়োজন। অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সরকারি উদ্যোগে। বিশেষ করে এই মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা খুব বেশি থাকে, সেগুলোর দামই সাধারণত রমজানকে সামনে রেখে বেড়ে থাকে। রমজান সহমর্মিতার মাস। একে অপরের প্রতি স¤প্রীতি, সমবেদনা ও সহমর্মিতা রমজানের মহান শিক্ষা। হাদিস শরীফে এসেছে, রোজাদারের সাথে গায়ে পড়ে যদি কেউ ঝগড়া করতে আসে, রোজাদার বলবেন আমি রোজা রেখেছি।
রমজান সিয়াম সাধনার মাস। অভাবী মানুষেরও প্রত্যাশা থাকে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, যাতে তারা নির্বিঘে রমজান পালন করতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়। কিছু কিছু দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে রোজাদারদের নির্বিঘে প্রশান্তি সহকারে সিয়াম সাধনার সুযোগ করে দেয়া হয়। সহমর্মিতার প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও ক্রেতা সাধারণের হাতের নাগালে রাখা ও ওজনে কম না দেওয়া। ইসলাম শুধু অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম নয়। এর মূল বাণীই হচ্ছে মানবতার উৎকর্ষ, আল্লাহ্ ও রাসুলের আনুগত্য আর মানুষসহ সকল সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি ও ভালবাসা। পবিত্র রমজানে মুসলমানদের জীবন-জীবিকার সর্বত্র সততা, সংযম ও পবিত্রতার ছোঁয়া লাগবে এটাই স্বাভাবিক।
ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে মুনাফা করবেন তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু রমজান মাসে ভোক্তাদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অতিমুনাফা করবেন তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। প্রতি বছর, প্রতিমাস এবং প্রতিদিনেও জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার উপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারী আরও জোরদার করার আহবান জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরের নেতৃবৃন্দ। আজ শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তীতে একথা বলেন, বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ, নগর সহ সভাপতি আলহাজ্ব মাওঃ মোজাফ্ফার হোসাইন, মুফতী মাহবুবুর রহমান, সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাওঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সজীব মোল্লা, সহ সাংগঠনিক মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, প্রচার সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, সহ প্রচার আব্দুর রশীদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহ দপ্তর মুফতী আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, সহ অর্থ আলহাজ্ব মোমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী ইসহাক ফরীদি, সহ প্রশিক্ষণ মাওঃ হাফিজুর রহমান, ছাত্র ও যুব বিষয়ক মাওঃ ইমরান হোসাইন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক ডাঃ মাওঃ নাসির উদ্দিন, সংখ্যালঘু বিষয়ক আলহাজ্ব আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য মাওঃ শায়খুল ইসলাম বিন হাসান ও মাওঃ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
নৌবাহিনীর ত্রাণ ও জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে তাদের টহল অব্যাহত রেখেছে। মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। এসময় মুদি দোকান হার্ডওয়ারের দোকান খোলা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট ১০৩৪টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা করে। এসময় ২০০টি লিফলেট ও ১০০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়। সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, জরুরী প্রয়োজনে বাড়ীর বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য বাধ্য করা হয়। একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান ব্যতিত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, মংলা বন্দর, মাখরদন, সুন্দরবন এলাকায় টহল পরিচালনা করে ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। এসময় মটরসাইকেল চালক ও মুদি দোকান খোলা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এক হাজার ছয়শত টাকা জরিমানা করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট ৩৪৫টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা করে। এসময় ১০০টি লিফলেট ও ৫০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি মংলা দিগরাজ বাজার, মংলা ফেরিঘাট এবং আশেপাশের এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ৬০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে।
মাহে রমজান উপলক্ষে সিটি মেয়রের আহবান
খবর বিজ্ঞপ্তি
পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, মুসলিম জাতির ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান। মাসটিকে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমতের মাস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। বিধায় ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের জন্য সামর্থবান সকলের সঠিকভাবে রোজা পালন করা উচিত।
রমজানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ভেজালমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। সিটি মেয়র ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলকে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান। পবিত্র রমজানে তিনি সকলের সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন।
সকলে কর্মহীন মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসুন: মঞ্জু
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশে এখন প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আর লকডাউনের কারণে সারা দেশের কর্মহীন মানুষ খাবারের জন্য হাহাকার করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ বিক্ষোভ করছে। করোনায়ও আওয়ামীলীগের নেতাদের চরম লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের সামনে বড় ধরণের দুর্ভিক্ষ আসন্ন। আমাদের সামনে সকল কিছুর উর্ধ্বে আমার প্রাণপ্রিয় মাতৃভুমি। এই দেশ স্বাধীন করতে অনেকে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে। আর আজ এ দেশের মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার জন্য বিএনপি’র সকল স্তরের নেতা-কর্মিরা সাহায্য করছে। দেশ ও দেশের মানুষ ভাল থাকলে আমরা সকলে রাজনীতি করতে পারবো। দুর্ভিক্ষ-মহামারির পর এখন করোনাভাইরাস আমাদের মাঝে বিরাজ করছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই বিএনপি’র মুল লক্ষ। আর এ লক্ষকে সামনে রেখে মানুষের সাহায্যের জন্য শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌছে দিচ্ছে গৃহবন্ধি কর্মহীন মানুষের মাঝে। আমাদের সমাজে শুধু নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত নয়, অন্ধ, প্রতিবন্ধি, ভ্যান চালক, রিক্সা চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন অতিবাহিত করছে। অদৃশ্যের কাছে সকলে কেমন যেন অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। মানুষ মানুষের জন্য, একথা কতটুকু সত্য তা বাস্তবে অনুধাবন করা কঠিন। সমাজের বিত্তশালী মানুষেরা আসুন আমরা সকলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে গৃহবন্ধি কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াই। অন্ন, ওষুধ, চিকিৎসাসহ সকল প্রকারের সাহায্য প্রদান করে জীবন বাঁচানোর পথকে প্রশাস্ত করি। দিনের পর দিন মানুষ ঘরে বন্ধি। এ অবস্থা কত দিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না। আল্লাহ্ সকলকে ধর্য্যধারণ করে ঘরে থাকার তৌফিক দান করুন।
শুক্রবার দুপুরে মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের কারণে অসহায় সোনাডাঙ্গা থানার ডালমিল এলাকার অন্ধ পুর্নবাসন সেন্টারের সদস্যদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এময় উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাসানুর রশিদ মিরাজ, আকরাম হোসেন খোকন, রবিউল ইসলাম রবি, ইকবাল হোসেন, মোস্তফা জামাল মিন্টু, মুশফিকুর রহমান অভি, সিরাজুল ইসলাম, আইনুল রহমান, সোহরাব হোসেন, রিয়াজুল কবির, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
যশোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বৃদ্ধের মৃত্যু
যশোর অফিস
করোনার উপসর্গ নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক অন্তঃসত্ত্বা (২৪) নারী ও এক বৃদ্ধ (৬০) শুক্রবার মারা গেছে। করোনা সন্দেহে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলিয়ের জিনম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বর্নি গ্রামের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী জরুরি বিভাগে আসেন। করোনার উপসর্গ থাকায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। শুক্রবার ভোররাতে তিনি মারা যান। এদিকে রাত দেড়টায় চৌগাছা উপজেলার ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ অ্যাজমা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ভোর চারটায় তিনিও মারা যান। তারা দুজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এত কম সময়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, যেহেতু মৃত ওই দুজনের করোনার উপসর্গ ছিল, তাই মরদেহ পলিথিনে মুড়িয়ে সতকর্তার সাথে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনা প্রটোকল অনুযায়ী কম মানুষের উপস্থিতিতে দাফন এবং ৫ ফুট গভীরতার কবর খুঁড়ে সমাহিত করতে বলা হয়েছে।
কেশবপুরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আরেকজন আক্রান্ত, এলাকায় উত্তেজনা
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরের শশুরবাড়িতে করোনায় আক্রান্ত মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্য সহকারীর দ্বিতীয় দফায়ও নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাকে কেশবপুর উপজেলার ইমানগর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। তার সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়লেও তাকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে না নেয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বার বার তাকে ওই গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার দাবি করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ওই দাবি উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই বাড়ির পাশেই চারটি প্রতিবন্ধি শিশু রয়েছে। তারা সময় অসময়ে দৌড়ে ওই বাড়িতে গিয়ে উঠছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে হাসপাতালে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, ইমাননগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চিকিৎসাধীন স্বাস্থ্য সহকারীর সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালক আক্রান্ত হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ওই যুবক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র। বুধবার দ্বিতীয় দফায় ওই স্বাস্থ্য সহকারীর নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তার শ্বশুর বাড়ির অন্যান্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় ওই ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নতুন আক্রান্ত মাদ্রাসা ছাত্রকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও পূর্বের আক্রান্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি প্রথম দিনই আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার শ্বশুর বাড়ির অন্য সদস্যরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতো না। গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহীন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলীপ রায় ইমাননগর গ্রামে উপস্থিত হয়ে করোনায় আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । এসময় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী উপস্থিত ছিলেন।
কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ইমাননগর গ্রামটি তার ইউনিয়নে হওয়ায় মনিরামপুরের আক্রান্ত ব্যক্তিকে শ্বশুর বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ । ওই সময় দাবি করা হয়েছিল আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে একারনেই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা অন্যরাও নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার জোরালো দাবি উঠেছে এলাকায়। মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, তাঁর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্য সহকারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর উপজেলার ইমাননগর গ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই বাড়ির এক সদস্য নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, মনিরামপুরের স্বাস্থ্য সহকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইমাননগর গ্রামে শশুর বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই বাড়িতে আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত বক্তিকে মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দীন বলেন, করোন আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। সেখানে একটি পুলিশ টিম রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
কেশবপুরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আরেকজন আক্রান্ত, এলাকায় উত্তেজনা
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরের শশুরবাড়িতে করোনায় আক্রান্ত মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্য সহকারীর দ্বিতীয় দফায়ও নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাকে কেশবপুর উপজেলার ইমানগর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। তার সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়লেও তাকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে না নেয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বার বার তাকে ওই গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার দাবি করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ওই দাবি উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই বাড়ির পাশেই চারটি প্রতিবন্ধি শিশু রয়েছে। তারা সময় অসময়ে দৌড়ে ওই বাড়িতে গিয়ে উঠছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে হাসপাতালে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, ইমাননগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চিকিৎসাধীন স্বাস্থ্য সহকারীর সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালক আক্রান্ত হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ওই যুবক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র। বুধবার দ্বিতীয় দফায় ওই স্বাস্থ্য সহকারীর নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তার শ্বশুর বাড়ির অন্যান্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় ওই ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নতুন আক্রান্ত মাদ্রাসা ছাত্রকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও পূর্বের আক্রান্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি প্রথম দিনই আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার শ্বশুর বাড়ির অন্য সদস্যরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতো না। গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহীন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলীপ রায় ইমাননগর গ্রামে উপস্থিত হয়ে করোনায় আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । এসময় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী উপস্থিত ছিলেন।
কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ইমাননগর গ্রামটি তার ইউনিয়নে হওয়ায় মনিরামপুরের আক্রান্ত ব্যক্তিকে শ্বশুর বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ । ওই সময় দাবি করা হয়েছিল আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে একারনেই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা অন্যরাও নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার জোরালো দাবি উঠেছে এলাকায়। মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, তাঁর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্য সহকারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর উপজেলার ইমাননগর গ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই বাড়ির এক সদস্য নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, মনিরামপুরের স্বাস্থ্য সহকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইমাননগর গ্রামে শশুর বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই বাড়িতে আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত বক্তিকে মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দীন বলেন, করোন আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। সেখানে একটি পুলিশ টিম রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
দেনা পরিশোধে ব্যর্থ দম্পতি মেটালেন জীবনের সাধ
যশোর অফিস
দেনা পরিশোধ করতে না পেরে যশোরের কেশবপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজন একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন- কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ঘোপসেনা গ্রামের শামিম হোসেন (৩০) ও তার স্ত্রী রেনুকা বেগম (২৫)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সংসারে দেনা হওয়ার কারণে শামিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাই সকালে সে গামছা দিয়ে আর রেনুকা তার ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম জানান, অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করেনি। তবে তার দায়দেনার পরিমাণ অনেক। শামিম পল্লী বিদ্যুতের ফোরম্যান হিসেবে কাজ করতেন। লেবার আনার ক্ষেত্রে তিনি এই দায়দেনায় জড়িয়ে পড়েন। আজ সকালে তার পাঁচ বছরের শিশুটি পাশেই নানাবাড়িতে চলে যায়। সকালে ওই বাড়িতে রান্নাও হয়েছে। কিন্তু তারা খাওয়া-দাওয়া করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, দায়দেনার কারণেই স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন।
কেশবপুর থানার ওসি জসীম উদ্দীন বলেন, ‘ঋণ ও দায়দেনার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তারা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্যে মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’
মুজিবনগর লকডাউন
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওসমান গনি। করোনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির দাফনে অংশ নেওয়া সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে মুজিবনগরের ভবেরপাড়া গ্রামে ইদ্রিস আলী নামের একজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে যশোর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিস শাহ’র করোনা টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দীন। এর পর পরই মুজিবনগর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক জেলা কমিটি। এদিকে তাকে দাফন কাজে অংশ নেওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওসমান গনি, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজানুর রহমান, ওসি (তদন্ত) সহ দাফন কাজে অংশ নেওয়া অপর পাঁচ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।









































