Home Lead মেঘনা তেল ডিপোর চুরির সিন্ডিকেটে শত কোটি টাকার মালিক সবুজ

মেঘনা তেল ডিপোর চুরির সিন্ডিকেটে শত কোটি টাকার মালিক সবুজ

172

ক্যাজুয়াল কর্মচারী থেকে আলাদিনের চেরাগ


স্টাফ রিপোর্টার।।


মেসার্স মেঘনা অয়েল কোম্পানিতে একসময় সাধারণ দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকের কাজ করতেন এরশাদ আলী সবুজ (পিতা: মৃত খান মোজাফফর)। পরবর্তীতে কোম্পানির অধীনে ‘ক্যাজুয়াল’ কর্মচারী হিসেবে ভুক্ত হন। ক্যাজুয়াল কর্মচারী হিসেবে প্রতি মাসে তিনি যে সীমিত বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে অলৌকিকভাবে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি!

মেঘনা তেলের ডিপো কেন্দ্রিক তেল চুরি সিন্ডিকেট, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়া এবং আত্মীয়তার রাজনৈতিক দাপট কাজে লাগিয়ে সবুজ গড়ে তুলেছেন একের পর এক অঢেল সম্পত্তির পাহাড়।


শেখ সোহেল ও ফয়েজের আশীর্বাদে অঢেল সাম্রাজ্য: অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামান্য বেতনের আড়ালে সবুজের ভাগ্যের এই আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার নেপথ্যে ছিল বিগত হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হাত। শেখ সোহেল এবং ফয়েজের প্রত্যক্ষ আশীর্বাদে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি ফুলবাড়ী গেটে ‘নগর ফিলিং স্টেশন’ নামক বিশাল পেট্রোল পাম্পের মালিক হয়েছেন।

শেখ রুবেল কে নিয়ে নগর ফিলিং স্টেশন উদ্বোধনের দিনে সবুজ- খুলনাঞ্চল


নদীর ওপারে দিঘলিয়ায় গড়ে তুলেছেন রাজকীয় ডেইরি ফার্ম (গরুর খামার)। এছাড়া ঘের ও ধান চাষের জন্য নামে-বেনামে কিনেছেন বিঘা বিঘা জমি। শেখ পরিবারের আনুগত্য বজায় রাখতে এবং তেল চুরির রাজত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতি বছর কোরবানি ঈদে নিজের খামার থেকে সেরা দুটি করে প্রকাণ্ড গরু শেখ সোহেলকে উপহার পাঠাতেন সবুজ।


কাউন্সিলর পিন্টুর মামা পরিচয় ও দাতব্য নাটকের অন্তরালে: সবুজের এই উল্কাগতির পেছনে মূল প্রভাবক ছিল খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর পিন্টু। সুলতান মাহমুদ পিন্টু তাঁর নিজ ভাগ্নে হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখাতে সবুজের বেশি সময় লাগেনি।

বিগত সরকারের আমলে এই ভাগ্নে-মামার সিন্ডিকেট মেঘনা তেলের ডিপো থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল চুরি ও পাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে শেখ সরকারের আমলে বিশাল জাকজমক আয়োজনে এলাকায় ত্রাণ বিতরণের মতো ‘দাতব্য’ নাটকও করতেন এই সবুজ।


বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলার আসামির নতুন কৌশল: সরকার পতনের পর আইনি জালেও আটকা পড়েন এই আওয়ামী দোসর। খুলনা মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও হামলার মামলায় (খালিশপুর থানা মামলা নং- ৪, তারিখ: ২১/০৮/২০২৪) তাঁকে ৭৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নতুন কৌশল খাটানোর চেষ্টা করছেন।

শেখ সোহেল ও তালুকদার আব্দুল খালেক এর সাথে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে যুবলীগ নেতা এরশাদ আলী সবুজ-খুলনাঞ্চল

তিনি দাবি করেন, তিনি নাকি দিঘলিয়া থানা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত! তাহলে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় কেন আসামি হলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের দোষ এড়িয়ে তিনি বলেন, “সাবেক কাউন্সিলর পিন্টুর মামা হওয়ার কারণেই আমাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আসামি করেছে।”


বদলায় সরকার, থামে না তেল চুরি: খুলনার সচেতন মহলের মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়, সরকার পরিবর্তন হয়; কিন্তু মেঘনা তেলের ডিপোর সেই চেনা তেল চুরি সিন্ডিকেট ও তাদের মূল হোতারা অধরাই থেকে যায়।

আবু সুফিয়ানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিচ্ছে এরশাদ আলী সবুজ–খুলনাঞ্চল

ক্যাজুয়াল কর্মচারী সবুজের এই রূপকথার মতো আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এবং জাতীয় সম্পদ তেল চুরির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অবিলম্বে কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ খুলনাবাসী।