ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
ডুমুরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিশেষ খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে শত কোটি টাকার শুভঙ্করের ফাঁকি ও ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। খনন না করেই বরাদ্দকৃত টাকা পকেটে পোরা এবং কাজের নামে ভেলকি দেখিয়ে ‘সততার’ নাটক সাজানোর তীব্র অভিযোগ উঠেছে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকারের বিরুদ্ধে।
জেলা প্রশাসকের কড়া হস্তক্ষেপে প্রকল্পের ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য হলেও, এই অপকর্ম ঢাকতে সামাজিক মাধ্যমে ‘প্রশংসা পাওয়ার চক্রান্ত’ চালানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
পানি না সরিয়েই জোড়াতালি, খালের কাদা খালেই: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ২ কোটি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ টাকা ব্যয়ে উপজেলার রঘুনাথপুর ও সাহস ইউনিয়নের দুটি প্রধান খাল খননের কাজ শুরু হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের ১২-১৫ ফুট পানি নিষ্কাশন না করেই ভাসমান ভেকু (এক্সাভেটর) দিয়ে খালের নিচের কিছু কাদা চেঁছে পাড়ে রাখা হয়।
সামান্য বৃষ্টিতেই সেই মাটি আবার খালেই ভেসে গিয়ে আগের চেয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার রূপ নিয়েছে। শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করতেই ভেকু দিয়ে এমন আইওয়াশ বা জোড়াতালির কাজ করানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের সরাসরি অভিযোগ।
তদন্ত ও যুগ্ম সচিবের অসন্তোষ: সম্প্রতি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী বর্মণ সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে কাজের চূড়ান্ত নিম্নমান দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নকশা অনুযায়ী খালের পানি পুরোপুরি নিষ্কাশন করে পুনর্খননের কড়া নির্দেশ দিলেও ইউএনও তা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
সাহস ইউনিয়নের বড় দোয়ানিয়া খাল এলাকায় খননের কোনো মাটির চিহ্নই মেলেনি, উল্টো রোপণ করা চারাগাছও এখন পানির নিচে।
‘সততার নাটক ও প্রতারণা’ -নেতৃবৃন্দ ও সুধী সমাজ: সাহস ইউনিয়নের বাগদারি গ্রামের ইউপি সদস্য ইয়াসিন আরাফাত ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খান জিয়াউর রহমান জীবন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকে দেখানো হচ্ছে ইউএনও নাকি উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিয়ে সততার স্বাক্ষর রেখেছেন!
এটি জনগণের সাথে চরম প্রতারণা ও ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। কাজের নামে কোটি টাকা হরিলুট করতে গিয়ে ধরা খেয়ে এখন জেলা প্রশাসকের চাপে বাধ্য হয়ে টাকা জমা দিয়ে সততার বাহবা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
কৃষক মহাদেব মণ্ডল, সুদেব মণ্ডল ও মাছ চাষি সঞ্জয় মল্লিক জানান, কাজের এক-তৃতীয়াংশও না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের ধান্দা করা হয়েছিল।
ডুমুরিয়ার লাখ লাখ মানুষকে পানিবন্দী রেখে সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করার পেছনে ইউএনও এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের যে চক্রান্ত ছিল, তা কেবল টাকা ফেরতেই শেষ হতে পারে না।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি-কথিত ‘সততার’ মুখোশ উন্মোচন করে ব্যর্থ ইউএনও সবিতা সরকার এবং এই দুর্নীতিগ্রস্ত খাল খনন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।








































