সাতক্ষীরা প্রতনিধি।।
যা এক ঘেরের মালিকের জন্য গলগ্রহ ও ক্ষতিকর আবর্জনা, তা-ই অন্য ঘেরের মালিকের কাছে দামি মাছের মহার্ঘ্য খাবার! অতিরিক্ত শেওলার কারণে যখন চিংড়ির রোদ-বাতাস ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে যায়, ঠিক তখনই সেই ফেলে দেওয়া শেওলা সংগ্রহ করে একদিকে যেমন ঘের পরিষ্কার হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে একশ্রেণির শ্রমিকের বিকল্প জীবিকা ও অর্থনৈতিক সুযোগ। সাতক্ষীরার দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার ঘেরগুলোতে এখন এমনই এক অন্যরকম কর্মযজ্ঞ চোখে পড়ছে।
এক ঘেরের সংকট, অন্য ঘেরের সমাধান:
ঘেরের পানিতে অতিরিক্ত শেওলা জমলে চিংড়ির পোনা চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সূর্যের আলো না পৌঁছানোর কারণে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। একে স্থানীয়ভাবে ‘কাটা শেলা’ বলা হয়। চিংড়ি চাষিরা যখন এই অতিরিক্ত শেওলা নিয়ে বিপাকে পড়েন, তখন সাদা মাছ (যেমনÑরুই, গ্রাস কার্প, মৃগেল) চাষিদের জন্য এটি হয়ে ওঠে অতি পুষ্টিকর ও পছন্দের খাবার। ফলে নোনাপানির ঘেরের ক্ষতিকর এই শেওলা তুলে এনে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টিপানির কার্পজাতীয় মাছের ঘেরে।
থার্মোকলের ভেলা ও শ্রমিকের জীবিকা:
নীল জালের ভেতর হালকা ফোম বা থার্মোকলের টুকরো দিয়ে তৈরি বিশেষ চ্যাপ্টা ভেলা নিয়ে কোমরপানিতে নেমে শেওলা সংগ্রহ করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। ভ্যানপ্রতি এই শেওলা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
এলাকায় অন্য কাজের সুযোগ কম থাকায় বছরের প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস অনেকেই এই শেওলা কুড়ানো ও বিক্রির কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এতে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন একজন শ্রমিক, যা তাঁদের সংসার চালাতে বড় ভূমিকা রাখছে। শীতকালে শেওলা কমে গেলে তাঁরা আবার অন্যান্য দিনমজুরির কাজে ফিরে যান।
মৎস্য বিভাগের সবুজ সংকেত:
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য দপ্তর বিষয়টিকে একটি ইতিবাচক বৃত্ত হিসেবে দেখছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, চিংড়িঘেরের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত শেওলা অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই বর্জ্য যদি কার্পজাতীয় মাছের ঘেরে খাদ্য হিসেবে পুনঃব্যবহার (রিসাইকেল) হয়, তবে একদিকে যেমন ঘেরের পরিবেশ রক্ষা পায়, অন্যদিকে মাছ চাষের খরচও অনেকাংশে কমে আসে।
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘের পরিষ্কারের পাশাপাশি একটি টেকসই ও গ্রামীণ ক্ষুদ্র অর্থনীতির হাতছানি দিচ্ছে।









































