শামিম শিকদার।।
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় খুলনা মহানগরজুড়ে ভর করেছে ডেঙ্গুর তীব্র আতঙ্ক। ঘরে ঘরে জ্বর, হাসপাতালে রোগীদের ভিড় আর এডিস মশার বিষাক্ত থাবায় নগরবাসীর জীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে অনন্য এক মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ। কারো উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে গৃহীত এই মশক নিধন অভিযান রূপ নিয়েছে এক বিশাল গণসেবায়। দলমত ও রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিএনপি নেতাদের এমন আত্মনিবেদন খুলনাজুড়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে।

খুলনার মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের রূপরেখা তৈরি করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। তাঁর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় ও সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক ফগার মেশিন এবং উন্নত মানের মশক নিধন ওষুধ সংগৃহীত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার আগে মাঠে নামেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের একদল উদ্যমী কর্মী। তারা নগরীর অলিগলি, নর্দমা ও জঙ্গল পরিষ্কারের পাশাপাশি ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা শুরু করেন। তাঁদের এই অবিরাম প্রচেষ্টার পর বর্তমানে মহানগর যুবদল ও মূল দল বিএনপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খুলনা নগরীর প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মশা নিধনে একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু মোকাবিলার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহানগর বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়া বা ভোটের লড়াইয়ের নাম নয়; রাজনীতি হলো মানুষের বিপদে-আপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো। হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের জনকল্যাণমুখী আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা এই যুদ্ধে নেমেছি। যতক্ষণ না আমাদের খুলনার প্রতিটি শিশু, মা ও বয়োবৃদ্ধ সুরক্ষিত হচ্ছেন এবং শহর পুরোপুরি মশামুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই নিজস্ব অর্থায়নের মানবিক অভিযান থামবে না।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের এই নিরলস পরিশ্রমে স্বস্তির মুখ দেখছেন নগরবাসী। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীরা খোলা মনে তাঁদের আবেগ প্রকাশ করেছেন। নিরালা এলাকার গৃহবধু রাবেয়া খাতুন বলেন, “ডেঙ্গুর ভয়ে বাচ্চাদের নিয়ে সারাক্ষণ এক ধরনের অজানা আতঙ্কে দিন কাটাতাম। বিকেল হলেই মশার উপদ্রবে ঘরে টেকা দায় হতো। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক দলের ভাইয়েরা যেভাবে নিজেদের কাঁধে মেশিন নিয়ে এসে আমাদের গলি ও বাড়ির আনাচে-কানাচে ওষুধ ছিটিয়ে দিয়ে গেছেন, তা সত্যি অবিশ্বাস্য। এই চরম বিপদের দিনে মানুষের কষ্টের কথা ভেবে তারা যা করলেন, তা আমরা আজীবন মনে রাখব।”

রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব আকরাম হোসেন বলেন, “রাজনীতিবিদদের আমরা সাধারণত নির্বাচনের সময়েই বেশি দেখি। কিন্তু ডেঙ্গুর মতো মানবিক সংকটে যুবদল ও বিএনপির ছেলেরা নিজেদের পকেটের টাকায় যেভাবে প্রতিদিন ধোঁয়া ও স্প্রে ছিটানোর কাজ করছে, তা দেখে বুকটা ভরে যায়। প্রকৃত জনসেবা কাকে বলে, তারা আজ খুলনাবাসীকে তা বুঝিয়ে দিয়েছে।” স্কুল শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বলেন, “আমরা নানা রকম রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ দেখি, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় এমন আধুনিক ফগার মেশিন নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার ঘটনা খুলনায় বিরল। হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের এই মহৎ ও জনবান্ধব উদ্যোগকে আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অন্তর থেকে সাধুবাদ জানাই।”

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি জানান, “খুলনা আমার অস্তিত্ব, খুলনা আমার প্রাণের শহর। এই শহরের প্রতিটি নাগরিক আমার পরিবারের সদস্য। আমার পরিবারের মানুষ যখন ডেঙ্গুর ভয়ে আতঙ্কে থাকবে, তখন আমি বা আমার দলের নেতাকর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। রাজনীতি মানেই তো সুসময় কিংবা দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকা, সেবা করা।

আমি সংগঠনের শেষ কর্মীটি পর্যন্ত আহবান জানিয়েছি,যতক্ষণ না খুলনা পুরোপুরি ডেঙ্গুমুক্ত ও নিরাপদ হচ্ছে, ততক্ষণ প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি গলিতে এই ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। নগরবাসীকে বলব, আপনারা সাহস রাখুন। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে বিএনপির কর্মীরা প্রহরী হয়ে পাশে আছে। আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং চারপাশ পরিষ্কার রেখে সম্মিলিতভাবে এই ডেঙ্গু মহামারি পরাজিত করি।”









































