Home স্বাস্থ্য প্রতিদিনের ক্লান্তি আর হজমের সমস্যায় বিট কেভাস কতটা কার্যকর

প্রতিদিনের ক্লান্তি আর হজমের সমস্যায় বিট কেভাস কতটা কার্যকর

15

মিলি রহমান।।

সারাক্ষণ শরীরে অবসাদ, হজমে গোলমাল, ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া কিংবা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো সমস্যা থাকলে আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে গাট হেলথের সম্পর্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবে বিট কেভাস খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

বিট কেভাস আসলে কী?

বিট কেভাস হলো বিটরুট দিয়ে তৈরি একটি ফারমেন্টেড পানীয়। বিটরুট, পানি ও অল্প লবণ ব্যবহার করে এটি কয়েকদিন ফারমেন্ট করা হয়। ফারমেন্টেশনের ফলে এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কেভাস পান করার প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে গাট হেলথ নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ফারমেন্টেড পানীয় জনপ্রিয় হচ্ছে।

বিট কেভাস কেন পান করবেন?

হজমের স্বাস্থ্যে সহায়ক

ফারমেন্টেড হওয়ায় বিট কেভাসে উপকারী জীবাণু থাকতে পারে। এগুলো অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য উপকারী

বিটরুটে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ক্যান্সার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরা উচিত নয়।

ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখতে পারে

বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ত্বকের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শরীরে কর্মশক্তি বাড়াতে সহায়ক

বিটরুটে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট থাকে। এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যা রক্তপ্রবাহ ও শারীরিক কর্মক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

Benefits of Beet Juice: লাল রঙের এই ‘জুস’ খেলেই বাড়বে স্ট্যামিনা, দূরে থাকবে বহু ঘাতক রোগ – what are health benefits of beet juice – eisamay

হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে

বিটরুটের নাইট্রেট রক্তনালি প্রসারিত করতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঘরেই যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে ২ থেকে ৩টি তাজা বিটরুট ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ বা খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে নিন। এরপর পরিষ্কার কাঁচের একটি জারে বিটের টুকরোগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি ঢেলে দিন। স্বাদ ও ফারমেন্টেশনের জন্য অল্প পরিমাণ লবণ ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে সামান্য আদাও যোগ করা যায়। জারটি ঢেকে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কয়েকদিন রেখে দিন। ফারমেন্টেশনের সময় ও পরিবেশের ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। প্রস্তুত হয়ে গেলে কেভাস ছেঁকে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। তবে বিট কেভাস সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা, কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। একইভাবে ফারমেন্ট করা খাবার বা পানীয় খেয়ে অস্বস্তি হলে তা বন্ধ করা উচিত।