Home Lead সংগঠনে মনোযোগ, কাউন্সিলের চিন্তা ডিসেম্বরে

সংগঠনে মনোযোগ, কাউন্সিলের চিন্তা ডিসেম্বরে

1


ঢাকা অফিস।।

দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় আসায় সরকারি কার্যক্রমেই বেশি মনোযোগী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পার হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল করেছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট পদেও এনেছেন পরিবর্তন। এবার দলের অঙ্গসংগঠনগুলো গোছানোর পরিকল্পনা করছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের শুরুতে কাউন্সিল নিয়ে দলের ভেতরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যদিও বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। ওদিকে দলের কাউন্সিল নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে নতুন নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নেতারা। এবার কাউন্সিলে কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে দলটি। এরই অংশ হিসেবে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে নেতৃত্ব বেছে নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই দলের অভ্যন্তরে বাড়ছে নানা হিসাবনিকাশ ও আলোচনা।


সম্প্রতি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিলের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে কেন্দ্রের প্রভাবমুক্ত এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে দলের ত্যাগী, যোগ্য, তরুণ এবং মেধাবী নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দেয়া। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি শৃঙ্খলায় গুরুত্ব দেয়ারও তাগিদ দিচ্ছেন নেতারা। আর কাউন্সিলকে সামনে রেখে জেলা কমিটির পাশাপাশি এর আওতাধীন কমিটিগুলো সম্পন্ন করার কার্যক্রম শুরু করেছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা।রাজনৈতিক আলোচনা


ওদিকে সরকার থেকে দলকে আলাদা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শক্তিশালী করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠা নিয়ে সরকার গঠনের দলের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দল এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার পর তারা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। ফলে সাংগঠনিক ভিত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক অবস্থা জোরদার করতে যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের এবার কাউন্সিলে মূল্যায়ন করা হবে।


বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, হামলা ও মামলার কারণে ৯ বছর কাউন্সিল করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় পর কাউন্সিল হতে যাওয়ার নেতাকর্মীদের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কারণ এবার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ের কারণে কাউন্সিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের সামনে দায়িত্ব দেয়া হবে।

ওদিকে সপ্তাহে দু’দিন গুলশান কার্যালয়ে জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বিভিন্ন জেলা সফরেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। এসব বৈঠকে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা, কমিটি গঠনসহ নানা বিষয়ে নেতাকর্মীদের মতামত নেন তারেক রহমান বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে কাউন্সিল সামনে রেখে দলের মহাসচিব পরিবর্তনের বিষয় এখন আলোচিত হচ্ছে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তিনিই এ ব্যাপার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। বিএনপি’র সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গভাবে কাউকে মহাসচিব করা হবে। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে মনোনীত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় আছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওদিকে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি’র মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। ২০১১ সালে খোন্দকার দেলোয়ার যখন মারা যান তখন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে পদ শূন্য হলে তখন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এক্ষেত্রে রুহুল কবির রিজভীও মহাসচিব আলোচনায় আছেন। জাতীয় কাউন্সিলেও তাকে ভারমুক্ত করা হতে বলেও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।


কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলের এখনো দিন ও তারিখ ঠিক হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কাউন্সিল হবে।


সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি’র ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কাউন্সিলের উদ্বোধন করেছিলেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলায় তা সম্ভব হয়নি।