মাগুরা প্রতিনিধি
ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় নিয়ে গতকাল সোমবার দিনভর চলেছে আলোচনা। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির ১০ জনই হাইকোর্টে পেয়েছেন খালাস। কারণ ব্যাখ্যায় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী বলেছেন, আলোচিত এ মামলায় ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়েও বলা হয়েছে, ফেনীর বিচারক নির্বিচারে আসামিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন।
আজ মঙ্গলবার আরেক আলোচিত ঘটনাÑ মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দেবেন হাইকোর্ট। এ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন অন্য তিন আসামি।
শিশু আছিয়ার ঘটনাটি গত বছরের মার্চের। দেশ জুড়ে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা-ক্ষোভের মধ্যে মাত্র দুমাস ১১ দিনের মাথায় এসেছিল এ মামলার রায়।
তিন আসামির খালাসে ক্ষুব্ধ হন শিশুর মা আয়েশা খাতুন। আজ হাইকোর্টেও একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, পাশাপাশি অন্য আসামিদেরও বিচার হবেÑ আশা করছেন তিনি।
আট বছরের আছিয়ার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। গত বছরের মার্চের শুরুতে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় সে।
৬ মার্চ দুপুরে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে আনেন তার বোনের শাশুড়ি। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সামনে আসে শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা।
এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সবশেষে সিএমএইচে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ১৩ মার্চ মারা যায় আছিয়া।
৮ মার্চ আছিয়ার মা আয়েশা চারজনের নামে মামলা করেন। তারা হলেন, আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, শ্বশুর হিটু শেখ, শাশুড়ি জাহেদা বেগম ও সজীবের ভাই রাতুল শেখ। তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে স্থানীয়রা, দেওয়া হয় আগুন।
এরই মধ্যে ঘটনাটি আলোচিত হয় দেশ জুড়ে। দ্রুত বিচার ও অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় চলে বিক্ষোভ, মানববন্ধনের মতো নানা কর্মসূচি। আছিয়ার বাড়িতে যান বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীরা। সবার দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারকাজ।
ঘটনার দুমাস পর ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় দেন। আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় আসামি হিটু শেখকে। খালাস পান অন্যরা।
হাইকোর্টের রায় ঘিরে কী হচ্ছে, জানেন না মামলার বাদী আছিয়ার মা আয়েশা। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো জানি না বিচার কোন দিকে। হাইকোর্টে কী হচ্ছে, না হচ্ছেÑ কেউ আমারে জানায় না।’
নিম্ন আদালতে তিন আসামির খালাসের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘তারা সবাই জড়িত বলেই তো আমি জানি। তারা কীভাবে ছাড়া পায়? এখন তারা আমার বাড়ির আশপাশে ঘুরঘুর করে। আমরা ভয়ে থাকি।’
‘দেড় বছর তো হলো। কিন্তু হিটু শেখ বেঁচে আছে, ফাঁসি হয় নাই। আদালত ওই তিনজনের বিচারটাও যেন আমলে নেয়, আর হিটু শেখের ফাঁসি যেন হয়Ñ এটাই চাই। তাহলেই আমি সঠিক বিচারটা পাব,’ প্রত্যাশা আয়েশার।










































