অনলাইন ডেস্ক।।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা বিধি না মানায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একের পর এক হোটেলে, রেস্তোরাঁ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার মিনি বাংলাদেশ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুইশর বেশি হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক।
পর্যটক সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স অবস্থান নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সেদিন সন্ধ্যা থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজে অভিযানে অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অনেক হোটেলে নেই ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা জরুরি সিঁড়ি। ফায়ার অডিট ও পুলিশ পারমিশনের অভাবও দেখা যায় অনেক হোটেলে।
গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সুরক্ষা বিধি না মানায় একাধিক হোটেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এদিকে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন কলকাতার নিউমার্কেটে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাগরিকরা। কলকাতায় বর্তমানে অবস্থান করছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। যাদের মধ্যে সাত হাজারই রয়েছেন নিউমার্কেট এলাকায়। অনেককে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়তে দেখা যায়। অনেকে আবার খুঁজতে শুরু করেন নতুন হোটেল। এ সময় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু হোটেলের ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা যায়।
কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এলাকাটিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবসা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসা চাপের মুখে ছিল।
কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘সীমান্ত থেকে প্রতিটি বাসে যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে যাত্রীরা কলকাতায় আসছে। কিন্তু যাত্রীদের থাকার মতো হোটেল এই মুহূর্তে নেই। সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে, আমরা এই অবস্থানকে সমর্থন জানাই। তবে হোটেল মালিকরা কিছুটা সময় পেলে ভালো হতো।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন টুরিস্ট ভিসা শুরু হওয়ার পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময়টিতে নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা বড় ধাক্কা দিয়েছে। তবে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ৯ জন। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি, বাকি দুজন ভারতীয়।











































