সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বারোবাজার ইউনিয়নের মাাঝদিয়া বাওড়ের অদৃশ্য কারনে মরে ভেসে উঠেছে। তবে কিভাবে এতো মাছ মারা গেল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে- বিভিন্ন মহলে কথা বলে মিশ্র বক্তব্য পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন বিষক্রিয়ায়, কেউ বলছেন প্রচন্ড গরমে. কেউ বাওড়ের পানি উত্তাল হওয়ায় পানির প্রবল বাড়িতে মাছগুলো মারা যেতে পারে। তবে মৎস কর্মকর্তারা বলছেন, বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন অক্সিজেন সংকটে মাছগুলো মারা গেছে। তবে পানি পরিক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফলে মাছ মারা যাওয়ার সঠিক কারন অদৃশ্যই থেকে গেছে। আর স্থানীয়রা বলছেন, কারন জানেন না। শনিবার ও রোববার এ দুই দিনে বাওড়ের ছোট বড় সব ধরনের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেছেন। যা আগে কখনও দেখেননি।
মৎস অফিসসূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সাড়ে ৪’শ একর জমির উপর এ বাওড়। এখানে কমপক্ষে ৫ শতাধিক মৎসজীবির কর্মসংস্থান হয়েছে। মৎসজীবিরা সংগঠিত হয়ে এই বাওড়ে মাছ চাষের মাধ্যমে সারাবছর সংসার চালায়। হঠাৎ এ মাছ মারা যাওয়ায় তারা আজ পথে বসেছে। ভেসে উঠা মাছগুলোর ওজন প্রায় ৩ হাজার কেজি হবে বলে মৎসজীবি ও স্থানীয়রা বলছেন।
সংবাদ পেয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, বারোবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় মৎসজীবি আব্দুস সবুর জানান, শনিবার সকাল ৬ টার দিকে এ এলাকায় প্রবল গতিতে ঝড় বয়ে যায়। ঝড় শেষে বাওড়ের কিনারে গিয়ে দেখি বাওড়ের মাছ মরে ভেসে উঠছে। তখন মারা যাওয়া মাছের পরিমান কম থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। তখন এলাকার মানুষ মাছ ধরতে শুরু করে। কিন্ত রবিবার সকালে বাওড়ের অসংখ্য ছোট বড় বিভিন্ন জাতের মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, আবহাওয়ার বিভিন্ন বৈরি পরিবেশ গেছে। কিন্ত কখনও বাওড়ের মাছ এভাবে মারা যেতে কেউ কোন দিন দেখিনি। তারা জানান, বিষয়টি সবার কাছে রহস্যজনক।
স্থানীয়, বারোবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, যেভাবে মাছ মরেছে তা বর্ণনা করার মত না। বাওড়ে মরে যাওয়ার মাছের ওজন আনুমানিক কমপক্ষে ৩ হাজার কেজিরও বেশি হবে। এসব মাছের মধ্যে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের বড় মাছও রয়েছে। তিনি জানান, এ বাওড়ের উপর কমপক্ষে ৫ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান রয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত করছি মাছ মরার পিছনে কোন মহলের ষড়যন্ত্র আছে কিনা। তবে প্রাথমিকভাবে সবার সাথে কথা বলে যেটা জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রবল বেগের ঘুর্নিঝড়ের ফলে বাওড়ের পানি উত্তাল হয়ে ফেপে উরের দিকে উঠে যায়। ফলে মাছগুলো কাদার মধ্যে প্রবেশ করে স্ট্রোক করে মারা যেতে পারে।

আবার উত্তাল পানির বাড়িতেও মারা যেতে পারে।
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়ার মৎস কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে বাওড় পরিদর্শন করি। অক্সিজেন সংকটের কারনে এ মাছগুলো মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে পানি পরীক্ষার পর আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জাানান। তিনি আরো জানান, শনিবার সকালে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এরপরই মুলত মাছগুলো মরে যেতে থাকে। যে কারনে ধারনা করা হচ্ছে অক্সিজেন সংকটের কারনে এমন হতে পারে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, সংবাদ পেয়ে আমি বাওড়ে গিয়েছিলাম। যেভাবে মাছ মরেছে তা বর্ণনা করার মত না। আমি মৎসজীবিদের সাথে কথা বলেছি। প্রশাসন মৎস্য অফিসারের সাথেও কথা বলেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।











































