মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া (দাকোপ) ।।
খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার বেকার যুবকদের মোটর সাইকেলে যাত্রী বহন করে সংসার চলে তাদের। দাকোপ উপজেলায় ১৫০০-২০০০ যুবকের আয়ের একমাত্র ভরসা মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে চলছে তাদের সংসার। জানা গেছে, সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মোটর সাইকেল চালকরা চালনা সদরের ডাকবাংলো মোড়, বাজুয়া মোড়, পোদ্দারগঞ্জ বাজার, লাউডোব মোড়, বুড়ির ডাবুর মোড়, কৈলাশগঞ্চ বোর্টবাড়ী, ঠাকুর বাড়ি ঘাট, রামনগর ঘাট, কালিনগর ঘাট, তিলডাঙ্গা মোড়, চুতরখালি মোড়, কামারখোলা সহ ইউনিয়নের ও আজিজের মোড় বাজার নামক স্থানে জড়ো হতে থাকে। সেখান থেকে তারা এলাকার, খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা যাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছে চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। দূরত্ব অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেন। এতে তাদের একেকজনের সারা দিনে আয় হয় ৩০০-৪০০ টাকা। তেল খরচ বাবদ ব্যয় হয় ১৫০-২০০ টাকা। অবশিষ্ট টাকা দিয়েই চলে সংসার তাদের। বাজুয়া এলাকার মোটরসাইকেল চালক অসীম রায় জানান, আমরা ২৫০ জনের বেশি মোটরসাইকেল চালক প্রতিদিন বাজুয়া চড়ার বাঁধ মোড় থেকে যাত্রী বহন করে পোদ্দারগঞ্জ হয়ে দাকোপ উপজেলার পানখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে যাই। আমাদের এই রাস্তা দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে তেমন পারে না। তাই ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা যাত্রীদের মোটরসাইকেলে বহন করে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবার চালাই। উপজেলার লাউডোবের মোটরসাইকেল চালক হিরোনময় জানান, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অটোসহ অন্য যানবাহনগুলো সব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না। আমরা মোটরসাইকেল চালকরা যঞ্জবাড়ী মোড় থেকে হুলোরচক, কালীনগর, বাজার, রামনগরসহ আজিজের মোড় বাজার এলাকা পর্যন্ত মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করি। পোদ্দারগঞ্জ এলাকার মোটর সাইকেল চালক সাহিদ গাজী জানান, আমাদের এলাকার পাশ দিয়ে নদী বয়ে গেছে। বন্যায় প্রতি বছর রাস্তা-ঘাট ভেঙে যায়। এখানকার অধিকাংশ রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী। তাই মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলাচল সম্ভব হয় না। তাই মোটরসাইকেল কিনেছি। তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। এতে আমাদের সারা দিনে আয় হয় ৪০০-৫০০ টাকা। তেল বাবদ খরচ হয় ২০০-২৫০ টাকা। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সংসার চালাই। খুটাখালী গরুরহাট এলাকার যাত্রী বাবুরাম জানান, আমার বাড়ি খুটাখালী এলাকায়। আমি প্রায়ই মোটরসাইকেল করে পোদ্দারগঞ্জ, চালনাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করি। এই রাস্তা দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় আমরা মোটরসাইকেলে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করি। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। স্বল্প আয় দিয়ে মোটরসাইকেলের যা ভাড়া বহন করি তাতে চালকদের পেটের ভাত হয় না। দাকোপ এলাকার যাত্রী সুদাম জানান, আমি দাকোপ সিটেবুনে এলাকার বাসিন্দা। খুলনা থেকে আসলাম। এখন মোটরসাইকেল করে বাড়ি যাব। কিন্তু বাজুয়া ঘাট থেকে সিটেবুনে দুর্গম এলাকা হওয়ায় অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে মোটরসাইকেলই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। খুলনা থেকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। কিন্তু মোটর সাইকেলে সেসব জিনিসপত্র বহন করা কষ্টকর। তাই আমাদের এলাকার রাস্তা ঘাট ভালো হলে আমরা সহজেই চলাচল করতে পারতাম এবং যারা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে তারাও ভালো ভাবে গাড়ি চালাতে পারতো। বাজুয়ায় গাড়ি চালাতে আসা মোটরসাইকেল চালক অমর মন্ডল জানায় আমরা অন্য কোন কাজ না পেয়ে গাড়িতে করে যাত্রী টানি আমাদের জীবন – জীবিকার জন্য আমরা প্রতিদিন এতো কষ্ট করে থাকি। এর ভিতর অনেক শিক্ষিত যুবকও রয়েছে যারা চাকরি না পেয়ে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এবং পড়াশুনাও করছে। তাই আমাদের মধ্য যারা শিক্ষিত আছে তাদের চাকরির ব্যবস্থা ও যাদের চাকরির বয়স নাই তাদের যদি সরকার বিনাসুদে টাকা দিয়ে অথবা অন্য কোন কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতো তবে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে ছেলে-মেয়েদের ভালোভাবে লেখা- পড়া শিখাতে পারতাম। তাই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবকদের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়ার জন্য সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।











































