Home জাতীয় আর মাত্র ৬ দিন

আর মাত্র ৬ দিন

2

স্টাফ রিপোর্টার

বিশেষ দিনটি আসতে বাকি আর মাত্র ৬ দিন। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। পরের বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠান। তবে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে মুজিববর্ষের আয়োজনে। সেই সুবাদে ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় জনসমাগম এড়াতে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সে অনুষ্ঠানে পরিবর্তে ১৭ মার্চ টেলিভিশন, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সম্প্রচার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ধানম-ি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচী থাকবে। এছাড়া মুজিববর্ষের চূড়ান্ত হওয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর বাইরে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিবেচনায় বিভিন্ন দেশের সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানরাও উদ্বোধনী দিনে থাকছেন না।

সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি বলেন, প্যারেড গ্রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়াতে সেটি হচ্ছে না। সেই আয়োজনের পরিবর্তে টিভি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। এজন্য সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে প্রধান করে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুজিববর্ষে বিভিন্ন স্কুল, কলেজেও সীমিত পর্যায়ে অনুষ্ঠান করা হবে। এছাড়া মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানেও পুনর্বিন্যাস করা হবে। কোন কোন অনুষ্ঠান হবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সে কারণে মুজিববর্ষে শুধু অনুষ্ঠান নয়, বরং মানুষের সেবা ও কল্যাণে কাজ করবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর।

কামাল চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কোন বিদেশী অতিথিও আসছেন মুজিববর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে। মুজিববর্ষে বিদেশী অতিথিদের আগমনের বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

প্যারেড গ্রাউন্ডের পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচী নিয়েও সোমবারের সভায় আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে কামাল চৌধুরী জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় কমিটির প্রধান শেখ হাসিনাকে দেখিয়ে এই সূচী চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া যেকোন অনুষ্ঠানেই জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সেয়দ হাসান ইমাম, চিত্রনায়ক আলমগীর, সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ অনেকে।