Home আন্তর্জাতিক অভিষেককে বেধড়ক চর-থাপ্পর ও ডিম-জুতা নিক্ষেপ!

অভিষেককে বেধড়ক চর-থাপ্পর ও ডিম-জুতা নিক্ষেপ!

3


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত এক দলীয়কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাইয়ের ছেলে ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় তাকে ঘিরে ধরে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, জুতো, ডিম ও ইট ছোড়ে একদল বিক্ষোভকারী। পরে মাথায় হেলমেট পরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শনিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে কামালগাজির কাছে গেলে নারীরা তাকে কালো পতাকা দেখায়। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই অভিষেককে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে ছোড়া হয় ডিম ও জুতা। এ সময় জনতা ঘিরে ধরে তাকে সম্বোধন করে দিতে থাকেন ‘চোর’ স্লোগান। এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয় তাকে। এমন জনরোষ থেকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ এই নেতাকে কোনোভাবে বের করে নিয়ে যায় নিরাপত্তারক্ষীরা।

এতকিছুর পরও অবশেষে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে যান অভিষেক। গত ৪ মে নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি। এর আগেই শনিবার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আক্রান্ত ও নিহত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন অভিষেক।

পরে সেখানে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। তিবি অভিযোগ করে বলেন, ‘হেলমেট না থাকলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারত। হামলায় তার চশমাও ভেঙে গেছে। আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু আমি এখান থেকে চলে যাব না। নিহত কর্মীর বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।’ তবে এসব করে তাকে দমানো যাবে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।