মিলি রহমান।।
কুমড়োর বীজ ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি সমৃদ্ধ উৎস। এ কারণে এটিকে সুপারফুড বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে ১ চা চামচ ভেজানো বীজ খাওয়া মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন দ্বারা প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, কুমড়ার বীজে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীর সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে। এই দুই হরমোনই মেজাজ মেজাজ এবং ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে। কুমড়ার বীজের মতো ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঘুমের মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ভেজানো কুমড়ার বীজ খেলে যেসব উপকারিতা মেলে-
হজমে সহায়তা
কুমড়ার বীজ ডায়েটারি ফাইবারের একটি ভালো উৎস, যা একটি সুস্থ হজমতন্ত্র বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকালে ভেজানো কুমড়ার বীজ খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
পুষ্টি শোষণ
বলা হয়ে থাকে, ভেজানো কুমড়ার বীজ খেলে তা শরীরে পুষ্টি শোষণ ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। জার্নাল অফ এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, কুমড়ার বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টি উপাদান ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। নিয়মিত ভেজানো কুমড়ার বীজ খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করতে পারে।
হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো
কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং ফেনোলিক যৌগ থাকে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে,যা হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমায় এই বীজ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
নিয়মিত ভেজানো কুমড়ার বীজ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। অসুস্থতা ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। কুমড়ার বীজ ভিটামিন ই এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবেলা করতে এবং ফ্রি র্যাডিকেলের কারণে সৃষ্ট কোষের ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
মূত্রাশয়ের জন্য ভালো
কুমড়ার বীজে থাকা লিগনান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মূত্রাশয়ের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, বলা হয় যে কুমড়ার বীজ জিঙ্কে সমৃদ্ধ, যা প্রোস্টেট এবং মূত্রনালীর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই অপরিহার্য, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। এটি প্রদাহ কমাতে এবং মূত্রাশয়ের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে তৈরি করবেন
এক মুঠো কুমড়োর বীজ নিন এবং পানিভর্তি একটি কাচের জারে রাখুন। জারটি সারারাত ঢেকে রাখুন অথবা অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে, পানি ফেলে দিন এবং খালি পেটে এই পানি মিশ্রিত বীজ খান। এই বীজ সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া











































