সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
টানা দাবদাহের পর শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড় সাতক্ষীরাবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও রেখে গেছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবারও অন্তত ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) মো. মনির হোসেন জানান, ঝড়ে জেলার ১৯২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। ২৭টি ক্রসআর্ম ভেঙে গেছে এবং গ্রাহক পর্যায়ে অন্তত ২৩০টি মিটার পুড়ে বা ভেঙে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ২৭৫টি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং ৩৬টি খুঁটি হেলে গেছে।
তিনি বলেন, জেলার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে এখনও ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও সরঞ্জাম মেরামতে কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন। শনিবারও একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষোভ
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগে শনিবার শ্যামনগরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘শ্যামনগরবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানানো হয়।
শ্যামনগর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও তা স্থায়ী হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হয়েছে। প্রয়োজনের সময় স্থানীয় কর্মকর্তাদের সরকারি নম্বরে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাবুরায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকায় ঝড়ে বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, ঝড়ের সময় তার ঘরের কয়েকটি টিন উড়ে গেছে। নিজ খরচে ঘর মেরামতের সামর্থ্য নেই। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন মোকছেদ গাজীও। তিনি বলেন, ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পরিবার নিয়ে থাকার জায়গা থাকবে না।
তালগাছ ভেঙে শিশুর মৃত্যু
ঝড়ে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শারমিন ওই গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় ঝড় শুরু হলে একটি তালগাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
কালবৈশাখীর এই তাণ্ডবে একদিকে যেমন একটি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোক, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীনতা ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার হাজারো মানুষ।











































