Home আঞ্চলিক সুন্দরবনের ১৪০ জন বনরক্ষীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন

সুন্দরবনের ১৪০ জন বনরক্ষীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন

8

স্টাফ রিপোর্টার ।।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে দুদিনের মেডিকেল ক্যাম্পে ১৪০ জন বনরক্ষীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও কয়েকজনের হৃদরোগ ডায়াবেটিসের অবস্থা গুরুতর বলে শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। জরুরি বিশেষ চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সুতারখালী স্টেশনে দুইদিনের ওই বিশেষ ক্যাম্প গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। সপ্তাহে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনের ১৩০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বনরক্ষী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে বিদ্যুৎ, মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কারাগারের মতো মনে হয়। সেখানে একদিকে যেমন খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে, তেমনি সংকট রয়েছে খাদ্য সামগ্রীর। কোনো কিছু কিনতে গেলে কয়েক ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে লোকালয়ে গিয়ে তা কিনতে হয়। পরিবার সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন বনরক্ষীরা বনের মধ্যে একপ্রকার অসহায় জীবন-যাপন করেন। এর বিনিময়ে সামান্য কোনো সুবিধাও তারা পান না। এসব কারণে সুন্দরবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক বনরক্ষী নানান শারীরিক মানসিক সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু নানা জটিলতায় তারা সহজে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এটি একদিকে যেমন বনরক্ষীদের উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করবে। তবে এমন ব্যবস্থা চলমান রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেন তারা।

তারা জানান, খুলনার শেষ লোকালয় থেকে সুন্দরবনের নীলকমল ফরেস্ট স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। অন্য কোনো যানবাহন না থাকায় ট্রলারে করে লোকালয়ে আসতে সময় লাগে কমপক্ষে ঘণ্টা। গত বছর ফেব্রয়ারিতে ওই স্টেশনের বনরক্ষী জাহিদ হোসেন হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ট্রলারে করে খুলনায় আনার পথে তিনি মারা যান। জাহিদ হোসেনের (৪৬) মতো সুন্দরবনের বনরক্ষীদের এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যু এড়াতে বা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।

এই মেডিকেল ক্যাম্পের আওতায় বনরক্ষীদের ইসিজি, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস র‌্যাপিড করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কাজে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার চারজন টেকনিশিয়ান চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। ওই ক্যাম্প দুইদিন খুলনা রেঞ্জ এলাকায় বনের মধ্যে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বনফাঁড়ি স্টেশনে গিয়ে ১৪০ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৪/জনের ডায়াবেটিস হৃদরোগে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। ইসিজিতে ধরা পড়েছে একজনের হৃদযন্ত্রের অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসকেরা ওই তিন থেকে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ওই ক্যাম্পের মাধ্যমে পরীক্ষা না করালে বড় কোনো অঘটনও ঘটে যেতে পারতো বলে মনে করেন তিনি। তবে কোন শরীরে করোনাভাইরাস বা সে ধরনের কোন উপসর্গের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রত্যেকে করোনা প্রতিষেধক টিকা গ্রহনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোহসিন হোসেন, খুলনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবু সালেহ, দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আশফাক আহমেদ, বন মামলা আদালতের আইনজীবী মোঃ কামরুজ্জামান প্রমুখ।