পাইকগাছায় প্রশাসনের আনুমতি ছাড়াই লকডাউন ভেঙ্গে শত-শত মানুষ জড়ো করে রানীমা হত্যার বিচার দাবী করে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে একটি মহল। এ নিয়ে এলাকা বাসী মিশ্রপ্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন। শুক্রবার বিকেল ৩ টায় চাঁদখালী ইউপি’র দক্ষিন গজালিয় পাইকগাছা-কয়রা সড়কের উপর পর্নোগ্রাফি মামলায় জেল-হাজতে আটক মশিউর সরদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির নাম ব্যবহার করে এ কর্মসুচি পালন করে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন করোনা মহামারীর এই দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে সরকারী বিধিনিষেধ ভেঙ্গে অনুমতি না নিয়ে যারা মানববন্ধন কর্মসুচি পালনে উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদেরকে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গতকালের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রানীমার পিতা রফিকুল সরদার, মহিম ইসলাম,শাহিন আনম,আ: মালেক সরদার,আবু দাউদ মোড়ল, সালাম সরদার, মুজিবর মোড়ল, মাসুম সরদার, গোলাম রব্বানী, আল-মামুন, পলাশ, ডা: রফিকুল ইসলাম, ডাঃ টুটুল, সাত্তার সরদার, আল-হাসান, ইবাদুল সরদার, মাসুম বিল্লাহসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, গাজালিয়ার কামরুর সরদারের অবাধ্যো ছেলে মশিউরের বিরুদ্ধে তার বিবাহিত শালিকাকে ব্লাক মেইল করে নিকট আত্মীয়ের বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষনের ভিডিও ধারন করার অভিযোগ এনে শ্বশুর রফিকুল সরদার জামাতা মশিউরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। যার নং- ২৩, তাং ২০ এপ্রিল। মামলার পর ২১ এপ্রিল ভিকটিমকে নিয়ে মশিউর ও পুলিশের কাছে ধরা দেয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদুল ইসলাম জানান, রিমান্ড আবেদন করে আদালতের মাধ্যমে মশিউরকে জেল-হাজতে পাঠানে হয়েছে। ইতোপুর্বে রফিকুল সরদারের বড় মেয়ে রানীমার সাথে মশিউর সরদারের সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি শিশু পুত্র রয়েছে। জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারী মধ্য রাতে বাড়ীর পুকুর থেকে মশিউরের স্ত্রী রানীর মৃত দেহ উদ্ধার হয়। এ মৃত্যুর ঘটনায় রানীমার পিতা মাতা কোথায় কোন অভিযোগ না করায় উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মৃত দেহের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময়ের মধ্যে উভয় পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছোট মেয়েকে নিয়ে ব্লাক মেইলের ঘটনায় দু’পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় মামলায় রুপ নিয়েছে। রানীমা মৃত্যু নিয়ে কেন মামলা হয়নি এ প্রশ্ন রেখে পাইকগাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনের মামলার আসামী মসিউর জেল-হাজতে রয়েছে। করোনা দুর্যোগেকালে অনুমতি না নিয়ে উস্কানি দিয়ে মানববন্ধনের পদক্ষেপ সঠিক হয়নি। তার পরেও যানতে পেরে পুলিশ কর্মসুচি বন্দ করার পদক্ষেপ নেয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, করোনা সংকট নিয়ন্ত্রনে কঠোর লকডাউন চলছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিনা অনুমতিতে রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা সম্পূর্ন বে-আইনী কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।
– পাইকগাছা প্রতিনিধি











































