ঢাকা অফিস
এক দশক পর নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সহস্রাধিক ইউপিতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তার আগে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সহিংসতা না হওয়ায় সন্তুষ্ট ইসি। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। তবে সহিংসতা বেশি হলে পরবর্তী ধাপে সেনা মোতায়েনের কথা ভাববে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমড়া ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দীন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন।
ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপের ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজনের জন্য বেশি সময় পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এই ধাপে ১ হাজারের বেশি ইউপিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে সব জেলার সদর ও এর নিকটবর্তী উপজেলাগুলোর নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নগুলো থাকতে পারে। যেসব জেলায় সদর উপজেলা নেই, যেমন- ঢাকা, সেসব জেলার নিকটবর্তী উপজেলাগুলোর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সব জেলাতেই একসঙ্গে নির্বাচন শুরু করা হবে। সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে বা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বকেয়া রয়েছে, সেগুলোও অগ্রাধিকার পাবে।
দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৪ হাজার ইউপি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।
এদিকে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। গৎ ২১ জুলাই ইসি তাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবে যুক্ত করার সুপারিশ চূড়ান্ত করে। তবে সেই আইন আপাতত পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আগে যেভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতেন, এখনও সেভাবেই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
আসন্ন ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন।











































