আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পাকিস্তান। পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তী উত্তেজনার জেরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য স্থগিত হওয়ার পর থেকে এ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান।
সোমবার (২ নভেম্বর) পাকিস্তান-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি এ তথ্য জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
এক বিবৃতিতে কাসুরি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য এখন দূরবর্তী দেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহন ও জাহাজভাড়া বেড়েছে।
একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্য দেশে পৌঁছাতেও আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওষুধশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব ছিল। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চালু হলে এসব কাঁচামাল তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যেত। এতে পাকিস্তানের বছরে ২০০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পেও। কাসুরির ভাষ্য, তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটির বস্ত্রকলগুলোকে এখন ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।
কাসুরি আরও বলেন, চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতির মতো পণ্যও পাকিস্তানকে দূরবর্তী দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ এসব পণ্য উৎপাদনে ভারতের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।
তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে আমদানি ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
কাসুরি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো থেকে পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানি করা হলে তা তুলনামূলক কম খরচে এবং দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব। তাই রাজনৈতিক উত্তেজনার বাইরে গিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
………………………………………………………………………..
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস











































