ঢাকা অফিস।।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রামের এক আসামিকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাইমুম রেজা তালুকদারের বিদেশভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
সে ক্ষেত্রে সাইমুম রেজা কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কিছু করার নেই।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
গত ৯ মার্চ প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন। এরপর চট্টগ্রামের এক আসামির পরিবার তথা আইনজীবীর কাছ থেকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার জন্য কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়।
পরদিন গণমাধ্যমেও খবরটি ফলাও করে প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিটিতে রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মর্জিনা রায়হান মদিনা ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিন এবং সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাত উল্লাহ।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক চিফ প্রসিকিউটরকে প্রশ্ন করে বলেন, একজন প্রসিকিউটরকে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অপরাধে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি ৩১ অক্টোবর দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি আট মাসেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি, নাকি তাকে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ইতালিতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে?
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম চলছে। শেষ পর্যায়ে আছে, তারা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন। সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে কোথাও যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সে ক্ষেত্রে সাইমুম রেজা কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে তাদের (চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়) কোনো কিছু করার নেই।
তিনি আরও বলেন, এই ঘুষ চাওয়া এবং দেওয়া দুটোই কিন্তু অপরাধ। যারা তাকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, তারাও সমভাবে দায়ী। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) কিছুদিন বিদেশে ছিলেন। অন্যান্য প্রসিকিউটরের মধ্যে একজনের মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন না। নানা কারণে আসলে প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। যথাশিগগির সম্ভব ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন দেওয়া হবে।











































