কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি।।
যশোরের কেশবপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় করা মামলায় জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার জেসমিনকে গ্রেপ্তার করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে মোস্তফাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এসব তথ্য জানিয়েছেন কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
গ্রেপ্তার হওয়া জেসমিন উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও খোদার আলী সরদারের মেয়ে। মোস্তফা একই গ্রামের মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।
গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের মৎস্য ঘেরের বৈদ্যুতিক পাম্পের পানি সংরক্ষণের হাউজে দুই নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
নিহতরা হলেন, মোছা. মাজেদা ও তার স্বামী আলেক নুর ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন থানায় মামলা করেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি হাফিজুর জানান, জেসমিন ও মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। গত শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান তারা। এ সময় মোস্তফা সেখানে আসেন। জেসমিন বিবাহিত। মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের কয়েক মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় মাজেদাকে হত্যার পরিকল্পণা করেন তারা।
পরে মোস্তফা ও জেসমিন কলমিশাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। সেখানে মোস্তফা হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেককে আঘাত করেন এবং মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। পরে আলেককে পুরনো সেচ মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনো জীবিত থাকায় তাকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত কাঁচি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।











































