Home জাতীয় সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন: পাঁচ মামলায় আসামি সাড়ে ১১ হাজার

সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন: পাঁচ মামলায় আসামি সাড়ে ১১ হাজার

1


ঢাকা অফিস।।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দু’ দিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে পল্লবী থানায় ৩টি, মিরপুর মডেল থানায় ১টি ও রূপনগর থানায় ১টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে মোট সাড়ে ১১ হাজারের উপরে মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মিরপুর থানায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর, পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন। আজকেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকলের পরিচয় যাচাই বাছাই চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা রুজু হয়েছে পল্লবী থানায়। এসব মামলার বাদী পুলিশ। প্রতিটি মামলায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


এ ছাড়া রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি সিদ্দিক মাসুম বলেন, মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমাদের থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় ৭ থেকে ৮শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এখন পর্যন্ত মিরপুরের তিনটি থানায় মোট ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬০ জন। এদের মধ্যে ১৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে আদালতে পাঠানো হবে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আরও অন্তত ৬টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেউ যেন আর নাশকতা করতে না পারে এজন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।


বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুষ্কৃতকারী, যারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে, আইন লঙ্ঘন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়, তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সে যেই হোক না কেন, যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চাইছে বা ঘটাচ্ছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


এদিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বলছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের একটি অংশ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল। আন্দোলনের আড়ালে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও আছে তাদের। ডিবি বলছে, মিরপুরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকেও মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। ওই সময়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে তারা। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাদের হটিয়ে দেয় পুলিশ।