Home খেলাধুলা স্বপ্নের পরিসর বড় হলো আগামীর সময়ের ধন্যবাদ পাওয়া বীথির

স্বপ্নের পরিসর বড় হলো আগামীর সময়ের ধন্যবাদ পাওয়া বীথির

0

স্পোর্টস ডেস্ক।।

আগামীর সময়ের ধন্যবাদ পাওয়া সেই বীথির স্বপ্ন এখন বড় পরিসর ছুঁয়েছে। তৃণমূলে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া বীথিকে এবার কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

দেশের প্রথম নারী ক্রিকেট একাডেমির কারিগর বীথি রংপুর বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন। নারীদের জন্য ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলার পাশাপাশি দরিদ্র-অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন তিনি। নির্মাণ করেছেন ১১টি মসজিদ। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থেকে নজির সৃষ্টি করায় গত ২৫ মে আগামীর সময়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয় বীথিকে।

বিসিবি সূত্র জানায়, নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে বড় উদ্যোগ নেওয়া গয়েছে। এর অংশ হিসেবে রংপুরসহ আট বিভাগে নারী ক্রিকেটের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত কোচ ও কর্মকর্তারা। এর ফলে নারী ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সংগঠিত ও গতিশীল হবে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচিংয়ের লেভেল-১ সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগে বীথির সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন মুর্শেদা খাতুন সোমা। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন মনিকা আক্তার আশা।

আরিফা জাহান বীথি একজন নারী ক্রিকেটার। ইনজুরির কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি তার। রংপুর বিভাগীয় দলের পাশাপাশি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। তাছাড়া ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান ও রায়েরবাজার দলে একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবেও খেলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে একটি ইনজুরির কবলে পড়ে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায় তার। ছেড়ে দিতে হয় জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া ক্রিকেট খেলাটিকেও।

তবে খেলা ছাড়লেও ক্রিকেটের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন আষ্টেপৃষ্ঠে। নিজ জেলা রংপুরে বীথি গড়েছেন নারীদের জন্য দেশের প্রথম ক্রিকেট একাডেমি। ‘ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ নামের সেই নারী ক্রিকেটার গড়ার কারখানার পরিচালকও তিনি। সেখানে প্রতিনিয়ত প্রায় ২৫০ জনের মতো মেয়েকে বিনামূল্যে অনুশীলন করান। লক্ষ্য, নিজে না পারলেও তার প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে খেলবে। এর পাশাপাশি অসহায় মানুষদের সহায়তায় নানাভাবে কাজ করছেন বীথি।

রংপুর নগরের নূরপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম দম্পতির সন্তান বীথি। চার ভাইবোনসহ অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। তবে সেই দিন আর নেই। বীথির বড় ভাই এখন দুবাই প্রবাসী, তিনিই সংসারের হাল ধরেছেন। একসময় অন্যের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়া মানবিক বীথি রংপুরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। করোনাকালে শুরু হলেও মূলত ২০২১ সাল থেকে বীথি মানবিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। তার মানবিক কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এ পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকয় ১১টি মসজিদ তৈরি করেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ জন অসহায় মানুষকে রিকশা প্রদানসহ ৩০০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান, ৩৭ জনকে মালামালসহ দোকানঘর করে দিয়েছেন। গত তিন বছর ধরে রংপুরে স্বাবলম্বী পিঠামেলার আয়োজন করে ৬৩ জন গ্রামীণ নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন তিনি। এতকিছুর মধ্যেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন বীথি।

করোনাকালে মানুষ যখন ঘরবন্দি, বীথি তখন ভয়কে পেছনে ফেলে তার সাধ্য অনুযায়ী খাবার হাতে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন রংপুর নগরীর পাড়ায় পাড়ায়। প্রথম থেকে ঘরবন্দি অসহায় মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করলেও পরে গর্ভবতী মায়েদের সেবাদানে সময় কেটেছে তার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বীথি সবাইকে অনুরোধ করেছেন শেয়ার করে বিষয়টি সবাইকে জানানোর জন্য। এ কারণে অসহায় গর্ভবতী মায়েরাই প্রয়োজনে ফোন দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়েছেন বীথিকে।

একটি ফোনকলেই বিনামূল্যে পৌঁছে যায় রংপুরের গর্ভবতী মায়েদের ঘরে খাবার। আর গোপন থাকে সেই গর্ভবতী মায়ের পরিচয়। একজন গর্ভবতী মা প্রয়োজনে কল দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানালেই অটোরিকশায় খাবার নিয়ে সেখানে পৌঁছে যান বীথি। তার এই উদ্যোগ সেসময় রংপুরে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এমন মহৎ উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশের অনেক খ্যাতিমান তারকাসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষও।

তবে নারী ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে বিসিবির বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগে খুশি আরিফা জাহান বীথি। বিভাগীয় প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়ায় বিসিবিসহ রংপুর বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বীথি বলেন, ‘এই দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের-সম্মানের এবং একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়।

আগামীর সময়কে বীথি আরও বলেন, ‘এই নতুন দায়িত্ব অবশ্যই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং, তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব খেলোয়াড়দের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে রংপুর বিভাগের নাম আরও উজ্জ্বল করতে। তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করব।’