Home আঞ্চলিক মাকে গলা কেটে হত্যা, কারা হেফাজতে হৃদ্‌রোগে সেই শিক্ষকের মৃত্যু

মাকে গলা কেটে হত্যা, কারা হেফাজতে হৃদ্‌রোগে সেই শিক্ষকের মৃত্যু

2


যশোর প্রতিনিধি

যশোরে বটি দিয়ে কুপিয়ে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করার মামলার আসামি শিক্ষক মামুনুর রশিদ (৪৫) মারা গেছেন। কারা হেফাজতে অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ আজ সোমবার রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৮ অক্টোবর যশোর কারাগারে বন্দী অবস্থায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন মামুন। ওই দিন তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

মামুন যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মামুন দুটি বিয়ে করেছিলেন। আট-নয় বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া এলাকায় বিয়ে করেন তিনি। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ঝিকরগাছার অমৃতবাজার এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন মামুন। প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বিচ্ছেদ হয়। দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর আগেও বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন পর গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফেরেন তিনি। এর আগে তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বাড়িতে ফিরে ওই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মাকে মাটিতে ফেলে গলায় কোপ দেন মামুন। এতে মা আনোয়ারা বেগমের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বটি ফেলে পালিয়ে যান মামুন। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর মামুনকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।