শাহ তানভীর আহমেদ।।
বহু বছরের ক্ষোভ, কষ্ট আর অবহেলার গ্লানি মুছে ফেলে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে রূপসা ও ভৈরব তীরের শিল্পনগরী খুলনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এই প্রথম দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে পা রাখতে যাচ্ছেন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) তাঁর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা খুলনাজুড়ে এখন শুধুই আনন্দের শিহরণ, চোখেমুখে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর হৃদয়ে অপার ভালোবাসা। প্রিয় নেতাকে একটুখানি কাছ থেকে দেখার জন্য আকুল হয়ে আছে সমগ্র খুলনাবাসী।
নেতাকে বরণ করে নিতে খুলনা আজ যেন নতুন বধূর সাজে সেজেছে। নগরীর আনাচে-কানাচে, অলিগলির দেয়ালে দেয়ালে তরুণদের আঁকা চোখধাঁধানো গ্রাফিতিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অমলিন স্মৃতি আর এ দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য। প্রতিটি গ্রাফিতি যেন বলছে এক দীর্ঘ সংগ্রাম ও স্বপ্নজয়ের রূপকথা।
একদিনের কর্মব্যস্ত দিনপঞ্জি ও স্বপ্নের সূচনা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে স্বপ্নের মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের ভিত্তিবোধ স্থাপনের পাশাপাশি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ ও ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’-এর মধ্যকার এক যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি।
এরপর সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন। সুফি সাধকের চরণস্পর্শে ধন্য সেই মা মাটি থেকে দুপুর নাগাদ তিনি পৌঁছাবেন খুলনা সার্কিট হাউজে। একটুখানি বিশ্রামের পর বিকাল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
খুলনাবাসীর প্রত্যাশা ও এক আত্মিক টান: খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “বিগত ১৭টি বছর ধরে ভালোবাসার এই খুলনা অঞ্চলটি চরম অবহেলায় এক মৃতপ্রায় নগরীতে পরিণত হয়েছিল। আমাদের প্রিয় নেতার এই আগমন কেবল এক প্রশাসনিক সফর নয়, এ যেন নিঃশ্বাসে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। খুলনার বন্ধ কলকারখানা ফের সচল হওয়া, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঝরে পড়া স্বপ্নগুলোকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার যে মহতী প্রতিশ্রুতি তাঁর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে, তার জন্যই তো অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছি আমরা।”
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদার্পণে গোটা নগরজুড়ে উৎসবের হাওয়া বইছে। খেলাধুলাকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে এক আলোর পথ দেখানোই তাঁর মূল স্বপ্ন। এই স্বপ্নযাত্রার সূচনা আমার খুলনা থেকে হচ্ছে-এ আনন্দ ও গর্বের কোনো সীমা নেই। ভালোবাসা প্রকাশের অংশ হিসেবেই আমরা পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বর্ণিল আবহে সাজিয়ে তুলেছি।”
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, দেশের সাড়ে ১৬ লাখ তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যতের সোপান। জেলা স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে সুদৃশ্য আয়োজনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠবে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোমলমতি শিশু-কিশোর।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা স্বপ্নের নগরী: প্রিয় নেতার এই আগমনকে নির্বিঘ্ন ও সুসংহত রাখতে পুরো খুলনাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে পরম শ্রদ্ধাময় ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়। এসএসএফ, পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভালোবাসাপূর্ণ প্রহারায় রাত-দিন এক করে চলছে মাঠপর্যায়ের নজরদারি।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৈকালিক আলোছায়ায় বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে খুলনা যে এক নতুন ভোরের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে, সেই আবেগ আর স্মৃতির রেশ থেকে যাবে অনন্তকাল।











































