স্টাফ রিপোর্টার।।
সুন্দরবনের দুবলার চরে এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা। ২০২১ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে এ মেলা। তবে রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে আগামী ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। এতে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নিতে পারবেন।
পুণ্যস্নানে অংশ নিতে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নির্ধারিত পাঁচটি নৌপথ বহাল রাখা হয়েছে। এসব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা টহল দেবেন। তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এবারও রাসমেলা হচ্ছে না। তবে রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশ নিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বন বিভাগের পাস ও পারমিট পাবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুণ্যস্নানে অংশ নিতে তীর্থযাত্রীরা লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোট ও দেশি নৌকায় বিভিন্ন নদীপথে দুবলার চরে যাবেন। নির্ধারিত পাঁচটি নৌপথ হলো- বুড়িগোয়ালিনী ও কোবাদক থেকে বাটুলানদী, বলনদী ও পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী দিয়ে দুবলার চর; কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা ও বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী ও মরজাত দিয়ে দুবলার চর; নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা ও মরজাত নদী দিয়ে দুবলার চর; ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন হয়ে তিনকোনা দ্বীপ দিয়ে দুবলার চর এবং বগী, বলেশ্বর, সুপতি স্টেশন ও কচিখালী হয়ে শেলার চর দিয়ে দুবলার চর।
বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের জন্য তীর্থযাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রবেশপথে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার প্রবেশ ফি, অবস্থান ফি এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের পর পাস দেওয়া হবে। অনুমতির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ আবেদন করতে হবে। প্রতিটি পাসে সিল দিয়ে নির্ধারিত নৌপথ উল্লেখ করা হবে। তীর্থযাত্রীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী একটি পথ ব্যবহার করতে পারবেন।
২২ নভেম্বর দিনের ভাটায় যাত্রা শুরু হবে। নির্ধারিত নৌযানগুলো শুধু দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবে। বন বিভাগের চেকপোস্ট ছাড়া অন্য কোথাও লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা থামানো যাবে না। প্রতিটি নৌযানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট বা বয়া রাখতে হবে।
প্রতিটি জলযানের গায়ে রং বা স্টিকারের মাধ্যমে বি, এল, সি/সিরিয়াল নম্বর এবং তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। সুন্দরবনে প্রবেশের সময় প্রত্যেক তীর্থযাত্রীকে একটি টোকেন বা টিকিট দেওয়া হবে। বনে অবস্থানকালে সেটি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে আলোরকোলে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারও কাছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, হরিণ শিকারের ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটার কুড়াল, করাতসহ কোনো অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট, পানির বোতল, গ্লাস ও চামচ বহন করা যাবে না। লঞ্চ, ট্রলার, নৌকা এবং পুণ্যস্নানের স্থানে মাইক বাজানো, পটকা বা বাজি ফোটানোসহ সব ধরনের শব্দদূষণ নিষিদ্ধ। সুন্দরবনে প্রবেশের সময় তীর্থযাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
সুন্দরবনের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, রাসমেলার প্রস্তুতি নিয়ে কাউকে দুবলার চরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। গত চার বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কোনও মেলার অনুমতি নেই। শুধু রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশ নিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুবলার চরে যেতে পারবেন। এ জন্য তাদের বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২২ নভেম্বর নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে বন বিভাগের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে একযোগে যাত্রা শুরু হবে। একইভাবে ২৪ নভেম্বর ফিরতি যাত্রাও একযোগে সম্পন্ন হবে। কেউ আলাদাভাবে যাওয়া-আসা করতে পারবেন না। রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে হরিণ শিকার বন্ধে সুন্দরবনে টহল জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে সাধু হরিভজনের হাত ধরে দুবলার চরে রাসমেলার সূচনা হয়। এটি এ অঞ্চলের প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর একটি। রাসপূর্ণিমার ভোরে বঙ্গোপসাগরের জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা পাপমোচন ও মঙ্গল কামনা করেন। ২০২১ সাল থেকে সেখানে রাসমেলা বন্ধ রয়েছে। তবে রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানের আয়োজন অব্যাহত আছে।











































