স্পোর্টস ডেস্ক।।
ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। তিনটি ম্যাচ আয়োজন করে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি। এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত ভেঙে আর্থিক ঘাটতি পূরণের প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে তার এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন ফেডারেশনের একাধিক সদস্য।
গত মাসে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। তিন ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি স্বাগতিকেরা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়িয়েছিল ভারতীয় দল। কিন্তু এই ম্যাচগুলো আয়োজন করতে গিয়ে উল্টো বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
সূত্রের খবর, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ফুটবল দলকে এখনো পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি ফেডারেশন। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া অর্থ না পেলে দুই দেশের ফুটবল সংস্থা খেলাধুলার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ জানাতে পারে বলেও জানা গেছে।
এই ঘাটতি সামাল দিতেই ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত ভাঙানোর প্রস্তাব দেন কল্যাণ চৌবে। রোববারের বিশেষ সাধারণ সভায় তিনি জানান, তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক ঘাটতি পূরণে আপাতত স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যবহার করতে চান। পরে বাইরে থেকে অর্থের জোগান দিয়ে সেই অর্থ আবার আমানতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তবে কল্যাণের প্রস্তাবে আপত্তি জানান ফেডারেশনের বেশির ভাগ সদস্য। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের কারণে হওয়া বিপুল লোকসান সামাল দিতে স্থায়ী আমানত ভেঙে ফেলা উচিত হবে না। ফেডারেশনের সহসভাপতি এন এ হ্যারিসও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, স্থায়ী আমানত ভাঙানোর বিপক্ষে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আইএফএর প্রতিনিধি সুব্রত দত্ত। সভার পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব তথ্য জানান। তবে ঠিক কত টাকার আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলে সভায় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ফেডারেশনের এই আর্থিক সংকট ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। সভায় এক সদস্য জানতে চান, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে এত বড় আর্থিক ক্ষতি হলে ঘরোয়া ফুটবলের কার্যক্রম কীভাবে চালানো হবে? সন্তোষ ট্রফির মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন, ফুটবলের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ব্যয় মেটানোর অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে এসব বিষয়ে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে শোনা গিয়েছিল, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে ফেডারেশনকে নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করতে হবে না। কিন্তু বর্তমান আর্থিক সংকট এবং স্থায়ী আমানত ভাঙানোর প্রস্তাব সেই আশ্বাস নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।











































