Home খেলাধুলা খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ জয়, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে: শফিকুল আলম তুহিন

খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ জয়, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে: শফিকুল আলম তুহিন

3

মিঠুন-সোহানের সেঞ্চুরিতে খুলনার দাপুটে জয়


।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও কাজী নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, সৌম্য সরকারের বল হাতে ৫ উইকেট এবং এনামুল হক বিজয়ের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসে ময়মনসিংহ বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা বিভাগ। ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগ ২০২৬-২৭-এর এ জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে খুলনা। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবেই এগিয়ে রয়েছে দলটি।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা। ৭৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও কাজী নুরুল হাসান সোহান। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৮৮ রান সংগ্রহ করে খুলনা। মিঠুন খেলেন ১১৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। অন্য প্রান্তে সোহান করেন ১০৪ রান। ময়মনসিংহের হয়ে পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু নেন ৬ উইকেট। জবাবে খুলনার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ময়মনসিংহ। মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে দলটি। খুলনার হয়ে সৌম্য সরকার ৮ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।


ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ময়মনসিংহ। মো. আল আমিন জুনিয়রের ১০২ এবং মো. আব্দুল মজিদের ৫৯ রানের সুবাদে দলটি ৩১৯ রান সংগ্রহ করে। তবে সৌম্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে আরও ৩ উইকেট নেন সৌম্য। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ৫ উইকেট। ব্যাট হাতে সৌম্যর দিনটি ভালো না কাটলেও বল হাতে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ২৯ বলে ১৭ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন মাত্র ২ রান। জয়ের জন্য লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩ রানে আউট হওয়া এনামুল হক বিজয় দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন দায়িত্বশীল অপরাজিত ইনিংস। ১০৯ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৮০ রান করেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে ৩৮.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে খুলনা। ম্যাচে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং কাউন্সিলর চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেনসহ বিসিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।


অনুষ্ঠানে বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, খুলনা বিভাগের এই জয় অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্বাস এবং মাঠের লড়াকু মনোভাবের ফলেই এমন সাফল্য এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের মতো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখা জরুরি। তিনি খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও মনোযোগ নিয়ে খেলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, খুলনার ক্রিকেটের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ, কর্মকর্তা ও সংগঠকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খুলনা বিভাগের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। পরে ম্যাচসেরা মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান।