খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় বদরুল আলম নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ৩০ লাখ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত সাদেক।
নিহত বদরুল আলম (৩২) রুস্তমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি বালুর ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন। তিনি দুই ছেলের জনক।
আহত সাদেকের ভাষ্য, মনরতল বাজার থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোরাগ্রামে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে দা, চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে বদরুল নিহত হন। তিনি নিজে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, সাদেকের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে বদরুলের ওপর হামলা করতে দেখেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেননি। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে ফেরার পথে তার ভাইয়ের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কয়েকজন হামলা চালায়। এতে তার ভাই নিহত হন।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখান থেকে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল ও সাদেকের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। এদিকে বদরুলের মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।








































