Home আঞ্চলিক শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে মহেশপুরে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে মহেশপুরে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

6

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি।।

বাংলার শীত মানেই খেজুর রসের মিষ্টি সুবাস। যদিও প্রকৃতিতে এখনো পুরোপুরি নেমে আসেনি শীত, তবুও ঝিনাইদহের মহেশপুরে তার আগমনী বার্তা স্পষ্ট। উপজেলার গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের তোড়জোড়। শীতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার গাছিরা।

মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সকাল-বিকেল দেখা যায় গাছিরা দা হাতে খেজুর গাছে চড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গাছ চাঁচছেন, কেউ মুখ মসৃণ করছেন, কেউবা বাঁশের নল তৈরি করছেন রস সংগ্রহের জন্য। কোথাও গাছ কাটা হচ্ছে, কোথাও শুকোতে দেওয়া হচ্ছে কাটা অংশ। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জীবনে নেমে এসেছে শীতের আমেজ।

গাছিরা জানান, প্রথমে ধারালো দা দিয়ে খেজুর গাছের মাথা কেটে বের করা হয় সোনালী অংশ। এরপর ১২ থেকে ১৪ দিন রেখে দেওয়া হয় গাছটি। পরে আবার চাঁচ দিয়ে আরও ৭ থেকে ১০ দিন পর রস সংগ্রহের উপযোগী করা হয়। সবশেষে বাঁশের নল বসিয়ে শুরু হয় রস ঝরার প্রক্রিয়া।

তবে আগের মতো এখন আর নেই সেই সংখ্যক খেজুর গাছ বা গাছি। একদিকে গাছের পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে অনেক গাছই আজ অব্যবহৃত পড়ে আছে।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, খেজুর গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছি তৈরিতে আমরা নিয়মিত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। এতে গাছিদের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা হলেও ফিরেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশপুর উপজেলায় বর্তমানে ১০ হাজার ৫৮৩ টি খেজুর গাছ ও ১ হাজার ১২৩ জন গাছি রয়েছে। শীতের শুরু থেকেই এসব গাছ থেকে আহরিত হবে মিষ্টি রস, যা দিয়ে তৈরি হবে গুড় ও পাটালি, আর তা ছড়িয়ে পড়বে দেশের নানা প্রান্তে।

স্থানীয় গাছি মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা বছরের এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। খেজুর রস শুধু জীবিকার উপায় নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য।

প্রতি বছরের মতো এবারও খেজুর রসের মৌসুমকে ঘিরে মহেশপুরে বইছে উৎসবের আমেজ। রাতভর গাছের নল থেকে টপটপ করে ঝরছে রস, ভোরের কুয়াশায় হাঁড়ি নামাচ্ছেন গাছিরা, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি গন্ধ।

শীতের সকালে গ্রামীণ আঙিনায় এখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী, গরম গুড়ের হাঁড়ি আর খেজুর রসের মিষ্টি সুবাসে ভরপুর। খেজুর গাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি অর্থনৈতিক চক্র। যা একদিকে জীবিকার উৎস, অন্যদিকে সংস্কৃতির ধারক।

খেজুর রস কেবল পানীয় নয়, এটি বাংলার শীতকালীন ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই শীত মানেই খেজুর রস এ যেন গ্রামীণ জীবনের মিষ্টি অধ্যায়।