স্পোর্টস ডেস্ক।।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের চতুর্থ দিনে এক পর্যায়ে ঢাকার ম্যাচটি দাঁড়ায় আকবর আলী বনাম ঢাকা বিভাগ। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে সময়মতো আউট করতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতো ঢাকার সামনে। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করা আকবর সেই সুযোগ দেননি। শেষ পর্যন্ত আউট হলেও রংপুর হারছে না, এটা নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল রংপুর। এরপর ৪২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়েন আকবর।
১৩২ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় রংপুর অধিনায়ক খেলেছেন ৬৪ রানের ইনিংস। তার ব্যাটে ভর করে বড় ধস এড়ানোর সঙ্গে হারও এড়িয়েছে রংপুর। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আকবর জানালেন অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলাম, আমাদের ম্যাচ জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। দুই ঘণ্টা ব্যাটিং করতে হতো, অন্যথায় নেগেটিভ রেজাল্টের একটা সুযোগ তৈরি হতে পারতো। যেহেতু ম্যাচটা বাঁচানোর জন্য খেলছিলাম, অ্যাপ্রোচ ছিল শুধু দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যাটিং করতে হবে।’
ব্যাট হাতে নিজের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও কথা বলেছেন রংপুর অধিনায়ক। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারলেও নিজেকে ফর্মহীন মনে করছেন না তিনি।
আকবর বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, গত এক বছর ধরে যেভাবে ব্যাটিং করছি, আমি আউট অব ফর্ম নই। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগটা আমার খুব ভালো যায়নি, নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো যায়নি। তবে এর আগে এনসিএল, বিসিএল ওয়ানডে, বিসিএল চার দিনের ম্যাচ; সব মিলিয়ে আমি বলব না যে আমি আউট অব ফর্ম। চেষ্টা করছি ইনিংসগুলো বড় করার।’
চতুর্থ দিন শুরু করার আগে রংপুরের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তির ছিল না। আগের দিন তিন উইকেট হারানোর পর দল কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেখান থেকে ব্যাটিং গ্রুপের লক্ষ্য ছিল লম্বা সময় ব্যাট করা।
আকবর বলেন, ‘প্রথম দুই দিন আমরা খুব ভালো অবস্থানে ছিলাম। তৃতীয় দিনেও ড্রাইভিং সিটে থেকে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সুমন খান ও পারভেজ ভাই যেভাবে ব্যাটিং করেছে, এরপর তিনটি উইকেট পড়ার পর অনেস্টলি আমরা আজকের দিনটা একটু পিছিয়ে থেকে শুরু করেছিলাম। আমাদের ব্যাটিং গ্রুপের টার্গেট ছিল চার-পাঁচ ঘণ্টা ব্যাটিং করা। আমি যখন নেমেছি, আমারও একটাই লক্ষ্য ছিল; দুই ঘণ্টার একটা পার্টনারশিপ করতে হবে। এটা রান করার বিষয় ছিল না।’
সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডেও ক্রিকেট খেলেছেন আকবর। সেই অভিজ্ঞতা নিজের ক্রিকেটীয় উন্নতিতে কাজে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
আকবর বলেন, ‘ইংল্যান্ডে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। যেখানেই আপনি বেশি ম্যাচ খেলবেন, সেখানে আপনার গেম এক্সপেরিয়েন্স বাড়ে। অবশ্যই সেটা আমাকে সাহায্য করেছে। তবে শুধু ইংল্যান্ড নয়, আমি যেখানেই খেলি না কেন, এমনকি রংপুরে কোনো লিগে খেললেও সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি একজন খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।’










































