Home আঞ্চলিক ডুমুরিয়ায় সড়ক-মহাসড়ক দখল করে পশুর হাট ও কাঁচাবাজার: বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি

ডুমুরিয়ায় সড়ক-মহাসড়ক দখল করে পশুর হাট ও কাঁচাবাজার: বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি

7

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ব্যস্ততম সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত বসছে পশুর হাট, মাছের বাজার ও কাঁচাবাজার। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি যাতায়াতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এসব পথ দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৮৩ কিলোমিটার প্রধান সড়কের মধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কৈয়া ব্রিজ থেকে আঠারোমাইল পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এবং দৌলতপুর-শাহাপুর ৪৫ কিলোমিটার সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খর্নিয়া ও আঠারোমাইল এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে সরাসরি মূল সড়কের ওপরই বসানো হচ্ছে বিশাল গরু-ছাগলের হাট।

শুধু পশুর হাটই নয়, ডুমুরিয়া হাসপাতাল মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশ দখল করে রাখা হয়েছে বাঁশ, ইট, বালু ও খোয়াসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। চুকনগর ও খর্নিয়া বাজারের দুটি সরকারি যাত্রী ছাউনি পর্যন্ত দখল করে নেওয়া হয়েছে খাবারের দোকানের নামে।

ডুমুরিয়ার সাবেক উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন জানান, সড়কগুলোর আশপাশে একাধিক ডিগ্রি কলেজ ও বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খর্নিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, ভূমি অফিসের জায়গা এবং শাহাপুর এলাকায় সড়কের ওপর পশুর হাট বসায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

বেআইনিভাবে হাটের প্রসারণের কথা স্বীকার করেছেন খর্নিয়া গরুর হাট কমিটির সদস্য রেজোয়ান হোসেন। তিনি জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও বাজার উন্নয়নের স্বার্থে তারা সড়কে পশুর হাট বসিয়েছেন। তবে দ্রুতই এটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা এবং খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, সড়ক-মহাসড়ক দখল মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই অবৈধ হাট-বাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।