Home আলোচিত সংবাদ হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে আখতারুজ্জামান বললেন, ‘কেন আমি হেলমেট পরব’

হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে আখতারুজ্জামান বললেন, ‘কেন আমি হেলমেট পরব’

5

ঢাকা অফিস।।


রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর আগে তাকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরাতে যান সিএমএম আদালতের ইনচার্জ এসআই মোরশেদ আলম। আখতারুজ্জামান তখন বলেন, হাত ধরবেন না, ডোন্ট টাচ মি।


এরপর তাকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হয়। তবে প্রিজন ভ্যানের গেইটে এসে মাথায় থাকা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দেন আখতারুজ্জামান। বলেন, কেন আমি হেলমেট পরব।

সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।

এসময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন তিনি। এরপর তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য আখতারুজ্জামানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি নিয়ে তার এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বিচারক।

শুনানির আগে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি। জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের জন্য লড়ব, ইনশাআল্লাহ।

আদালত প্রাঙ্গণে বিজয়সূচক চিহ্নও দেখান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে আখতারুজ্জামানের উচ্চ-বাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

তাতে দেখা দেখা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের ইউডি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলছেন, ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?

এ ঘটনায় মামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

শনিবার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

আখতারুজ্জামানের পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন আখতারুজ্জামানও। পরে বিচারক তার রিমান্ড আদেশ দেন।