Home আঞ্চলিক কুষ্টিয়ায় ৩ দিনে তিন খুন, জনমনে আতঙ্ক

কুষ্টিয়ায় ৩ দিনে তিন খুন, জনমনে আতঙ্ক

4


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত তিন দিনে পরপর তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এসব ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে বাবার কাছে ২০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে এমদাদ হোসেন রাছেল (৩৫) নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রাছেল ওই গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে। অভিযুক্ত তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন (৩৫) শিল্পনগরীর আল্লারদর্গায় একটি পারটেক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সংঘর্ষে সড়কির আঘাতে তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই গ্রুপের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।


এর একদিন আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকার একটি হেরিংবোন সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় রাজা হোসেন (২৫) হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে। মরদেহটি দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো বলে ধারণা করে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন অংশ শিয়ালে ক্ষতবিক্ষত করেছিল।

এ ঘটনায় নিহত রাজার বন্ধু একই গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে রিফাছ হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ঘটনায় জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

পরপর তিন দিনে তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘গত তিন দিনে দৌলতপুরে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।’