Home Lead রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে

12
ছবি-এআই


ঢাকা অফিস।।
সংসদে সরকার ও প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে আগেই। এখন তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাজপথেও। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে রাজনীতিতে। উভয়পক্ষের রাজনৈতিক বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মতপার্থক্য ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, দখল-চাঁদাবাজি, আধিপত্যের লড়াইসহ নানা ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরে এক অপ্রীতিকর ঘটনায় গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে। এসব পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আট মাস সময়ের মধ্যেই রাজনীতির মাঠ কেবল সরব নয়, উত্তপ্তও হয়ে উঠেছে।
জামায়াত জোট বিভাগীয় লংমার্চসহ ধারাবাহিক কিছু কর্মসূচি পালন করছে, যেগুলোকে সরকার দেখছে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে। অন্যদিকে সরকারি দলের নেতারাও সুযোগ পেলেই বিরোধী দলকে নিয়ে সমালোচনায় সোচ্চার হচ্ছেন। কখনও কখনও কটাক্ষ করতেও দেখা যায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ফেনীর ফুলগাজীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বিরোধী দলের বিষয়ে তার বর্তমান মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায়। জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের অনুসারী ও একটি গুপ্ত বাহিনী জনগণের কল্যাণে সরকারের কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে আবারও হাত মিলিয়েছে এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

গুপ্ত রাজনীতি ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই লিপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল; তলে তলে কাজ করেছিল। আজ আবার তারা এবং ওরা, যারা পালিয়ে গেছে, এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত, আবার একসঙ্গে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ এর আগে সরকার ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের বিরোধ মূলত গণভোটের রায়, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে সংসদীয় বিতর্ক এবং কিছু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ তুললেন, যেটা চলমান রাজনীতিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। তবে জামায়াত ও এনসিপি নেতারা আরও আগে থেকেই সরকারের সমালোচনা করে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিরোধের শুরু:
মতপার্থক্যের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাঁ-না ভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। যাতে বলা হয়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন। তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজ হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা। জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধানে অস্তিত্বহীন এই পরিষদে শপথ নিতে অস্বীকার করে বিএনপি জোট। যে অধ্যাদেশের আলোকে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস না করায় বাতিলও হয়ে গেছে। বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করলেও তাতে যোগ দেয়নি জামায়াত-এনসিপি জোট। তাদের অবস্থান হলোÑ জুলাই জাতীয় সনদে গৃহীত সংস্কার এবং গণভোটের গণরায়কে ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক সংস্কার এগিয়ে নিতে চাইছে। ফলে বিরোধটি এখন পদ্ধতিগত প্রশ্নেও রূপ নিয়েছেÑ গণভোটের রায় সরাসরি বাস্তবায়ন হবে নাকি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে। সরকার দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউহদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কারে বিশেষ কমিটির চারটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংসদের বাইরে ১১ দলের চাপ:

এই বিরোধের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি জোরালো করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরগুলোর অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই সময় তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার। লংমার্চকে সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখাতে চাননি জোটের নেতারা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছিলেন, এটি সরকার পতনের আন্দোলন নয়, বরং সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’।

কিন্তু ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিধি বাড়ায় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াত ও এনসিপি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পথে সমাধান না হলে যেকোনো সময় তাদের আন্দোলন এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে। অর্থাৎ সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে হতে পারে এটি।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম আরও একটু কঠোর ভাষায় বলেছেন, তারেক রহমান হেলিকপ্টারে যাবেন না কিসে যাবেন সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে। নাহিদ ইসলামের ভাষায় তাদের আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে যাচ্ছে।

বাড়ছে বিএনপি-জামায়াত সংঘাত:

সরকার ও প্রধান বিরোধী জোটের রাজনৈতিক বিরোধের আরেকটি মাত্রা তৈরি হয়েছে মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে। আগস্টে রাজধানীর পল্লবীতে বিহারি ক্যাম্পে মৃতদেহের গোসলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপিপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জেও আগস্টে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়; সেখানে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একই সময় বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এসব ঘটনা জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধকে স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করছে। ফলে শীর্ষ নেতাদের কঠোর বক্তব্য মাঠের কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারেÑ এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২২ মাসে দেশে ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১৩ জন। আহত হন ৯ হাজার ৭৯৫ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ১৬৪টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৫ জন। নিহত হয়েছেন ১২ জন। এই সময়ে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৯৭ জন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মনিটরিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-এর জুন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে উদ্বেগজনক অবস্থান লক্ষ করা গেছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সহিংসতা অব্যাহতভাবে বেড়েছে। নিহতের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বেড়েছে, যা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বার্তা দেয়।

টানাপড়েনের কেন্দ্রে ঢাকা-১৭:

সরকার ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্বের সাম্প্রতিক দৃশ্যমান ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ঘটেছে ঢাকা-১৭ আসন এলাকায়। এই আসনের সংসদ সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। কয়েকদিন আগে তাকে না জানিয়েই মিরপুর এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে পুলিশ ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় জামায়াত আমির বিস্ময় প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। যেখানে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া তাকে বিস্মিত করেছে। বরং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

ঘটনাটি সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক অভিযান হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত আমিরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের সমন্বয় না থাকার বিষয়টি দুই পক্ষের সম্পর্কের টানাপড়েনের দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

রাজপথে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে :

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনার তিনটি প্রবাহ একই সঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার ও গণভোটের রায় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিরোধী জোট সংসদের বাইরে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখছে। তৃতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের ভাষাও ক্রমে কঠোর হচ্ছে। ফলে যেকোনো স্থানীয় ঘটনাও এখন জাতীয় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারেÑ এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মেজর আখতার গ্রেপ্তার:

বিমানবন্দরে এক অপ্রীতিকর ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বিরোধী দলের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব’:

অবশ্য এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে চান না বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য দলের স্পোকম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী সাহেব। আপনি তার সঙ্গে কথা বলুন।’ রুহুল কবির রিজভী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে নাÑ জানানোর পর নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে কেউ যদি কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে, সেটাকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’

‘আন্দোলন অব্যাহত থাকবে’:

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, তাদের চলমান আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার, জানমালের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে গৃহীত জুলাই সনদ, আদেশ ও গণভোটের ফল সরকার উপেক্ষা করেছে। এর মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ও আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।