ঢাকা অফিস।।
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নেতা-কর্মীদের তালিকা নেওয়া হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের বিষয়ে এসি সাকিবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, তাদের পরিচয়ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তাদের নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই তাদের হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল। তবে সেখানে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
একটি পক্ষ জাসদ কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যালয় দখলের কোনো সুযোগ নেই। কার্যালয়টি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর গুলিস্তানের জিপিও মোড় এলাকায় জাসদের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক চলছে, এমন অভিযোগ তুলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পল্টন থানা পুলিশ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতর থেকে লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ তখন জানিয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে একত্রিত হয়েছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন, এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে।









































