বিনোদন ডেস্ক।।
ইতালিতে হামলার শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।
কিছুদিন আগে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। দেশটির মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরেন বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি জানান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
এর এক দিন পরই বাঁধন জানান, তার ও পরিবারের খোঁজ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাসায় উপস্থিত হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির।
ফেসবুক পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, ‘আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তাঁর এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’
এরপর অভিনেত্রী আরো লিখেন, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরো দৃঢ় করেছে।
আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরো শক্তিশালী হয়।’
যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন লিখেন, ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন—আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অভিনেত্রীর কথায়, এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মেস্ত্রে শহরে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।










































