স্পোর্টস ডেস্ক ।।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে করা আচরণকে ‘হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিং।
২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দী থাকা সাবেক এই পাকিস্তান অধিনায়কের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব ক্রিকেটের তারকাদের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন তিনিও।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে কারাবন্দী ইমরান খানের মানবিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত চিকিৎসার জোর দাবি জানিয়েছেন। সেই উদ্যোগের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ৭২ বছর বয়সী হোল্ডিং।
কারাবন্দিত্বের পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করলেও ব্যক্তি ইমরান খানের ব্যক্তিত্ব ও মানবিক গুণের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একে অপরের বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ না খেললেও মাঠের বাইরে দুজন বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন বলে জানান হোল্ডিং।
বিশেষ করে লন্ডনে শওকত খানম ক্যানসার হাসপাতালের তহবিল সংগ্রহের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তখন থেকেই ইমরানকে খুব কাছ থেকে চেনার সুযোগ হয়েছে তার।
স্পোর্টস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোল্ডিং বলেন, ‘আমি একটি নাম উল্লেখ করব, ইমরান খান। আপনি হয়তো রাজনৈতিক আলাপে যেতে চান না, আমিও চাই না; তবে এটি একটি হৃদয়বিদারক গল্প। ইমরান আমার অন্যতম সেরা প্রতিপক্ষ ও সঙ্গী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি; কিছু ওয়ানডে আর কাউন্টিতে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি। তবে খেলার বাইরে আমি তার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি।’
স্মৃতিচারণ করে হোল্ডিং আরও যোগ করেন, ‘ইমরান যখন ক্যানসার হাসপাতালের তহবিল সংগ্রহের জন্য লন্ডনে চষে বেড়াচ্ছিলেন, আমি তার সঙ্গে ঘুরেছি এবং সাধ্যমতো সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ফলে আমি মানুষ ইমরানকে চিনি এবং জানি তিনি ঠিক কেমন মানুষ। এখন তার বর্তমান পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
সম্প্রতি পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকালে এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে অভিযোগ করেন, কারাগারে তাদের বাবার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই সাবেক অধিনায়কেরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সাবেক অধিনায়কদের পাঠানো চিঠির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তি বলেন, ‘যে অধিনায়কেরা চিঠিটি লিখেছেন, আমি তাদের পুরোপুরি সমর্থন করি। এতে কোনো কাজ হবে কি না জানি না, তবে একজন মানুষকে যেন আরেকজন সাধারণ মানুষের মতোই গণ্য করা হয়; সেই প্রচেষ্টায় আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কোনো মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা যায় না। যারা খুনখারাবি করেছে, তাদের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না। তাহলে এই মানুষটির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হবে, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।’
ইমরানের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে কোনো ঈর্ষা কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে হোল্ডিং বলেন, ‘এর পেছনে কোনো হিংসা বা ঈর্ষা কাজ করছে কি না আমি জানি না। কারণ সারা বিশ্বে ইমরান খানের চেয়ে বেশি পরিচিত কোনো পাকিস্তানি আছেন বলে আমার মনে হয় না। তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর।’










































