Home আঞ্চলিক কয়রায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে দুই মহাবিদ্যালয়

কয়রায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে দুই মহাবিদ্যালয়

3


কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার কয়রায় গত দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে দুটি মহাবিদ্যালয় (কলেজ)। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নানা অনিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে কলেজ দুটি থেকে অধ্যক্ষদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে স্বপদে পুনর্বহালের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন ওই দুই মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষরা।

পদত্যাগে বাধ্য হওয়া দুই অধ্যক্ষ হলেন উপজেলার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অদ্রীস আদিত্য মণ্ডল ও খান সাহেব কোমর উদ্দীন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ চয়ন কুমার।

প্রতিষ্ঠান থেকে আগের অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপম কুমার বৈদ্য জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অধ্যক্ষ চয়ন কুমার কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে অনুপম কুমার বৈদ্যকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কলেজটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আহমেদ হেলালি বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ চয়ন কুমারের বিরুদ্ধে আগে থেকে নিয়োগবাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি পালিয়ে যান। পরে দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এখন যদি তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে পারেন তাহলে পুনরায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

অন্যদিকে কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ অদ্রীস আদিত্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর একদল লোক কলেজে অভ্যন্তরে ঢুকে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। এরপর থেকে কলেজটিতে তাঁকে আর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে নিজ পদে ফিরতে তিনি আইনগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কলেজটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন কয়রা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অলি উল্লাহ। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অদ্রীস আদিত্য মণ্ডল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে যান। এরপর সেই সময়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারিকুজ্জামান সভা ডেকে সিনিয়র হিসেবে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই হিসেবে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

কলেজের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক জানান, সাবেক অধ্যক্ষ অদ্রীস আদিত্য তাঁর পদ ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলাটি বর্তমানে খারিজ হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এ উপজেলায় দুটি কলেজের অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছিলেন। নিজ পদে ফিরতে তাঁরা আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জেনেছি।