Home জাতীয় অষ্টম তলা থেকে বের হওয়ার সিঁড়ি পাঁচটি, চারটিই ছিল বন্ধ : মমেক...

অষ্টম তলা থেকে বের হওয়ার সিঁড়ি পাঁচটি, চারটিই ছিল বন্ধ : মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

2

ঢাকা অফিস।।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলা থেকে বের হওয়ার জন্য রয়েছে পাঁচটি সিঁড়ি। তবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেখানে আগুন লাগার সময় চারটিই বন্ধ ছিল। এতে আতঙ্কিত হয়ে নামার সময় অনেকেই সিঁড়ি না পেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আগুন লাগার সময় ভবনে থাকা জামালপুরের বাসিন্দা একজন নারীর ভাষ্য, ‘আগুন দেখে ছয়তলা থেকে নামতে গিয়ে দেখি, যে দিকেই যাই, সিঁড়ি বন্ধ। অনেকক্ষণ ছোটাছুটি করে পথ পাই। ’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তার কারণে ভবনের একটি সিঁড়ি খোলা রেখে, বাকি চারটিই বন্ধ রাখা হয়। মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রবের কারণে সারা বছরই চারটি সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়।

ফায়ার সাভিস, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার কিছু সময় আগে নতুন ভবনের অষ্টম তলায় হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ভবনে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় ভবনে থাকা রোগীর স্বজনরা রোগীদের নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসতে চাইলে হুড়াহুড়ি সৃষ্টি হয়। এতে অনেকেই হতাহত হন।

ময়মনসিংহ জেলা জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে হুড়াহুড়িতে একজন শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়।

রাতে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয়।

হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি। ওই সময় দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

আগুন লাগার কারণ ও মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ কমিটিতে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. গোলাম রহমানকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সদস্যসচিব করা হয়েছে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাঈনউদ্দিন খানকে।

এ ছাড়া ফায়ার সাভিসের সহকারী পরিচালক গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে রাখা হয়েছে কমিটিতে। কমিটির সদস্যসচিব মাঈনউদ্দিন খান বলেন, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

মৃত্যুর বিষয়ে যা জানা গেল

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার পর হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে কেউ মারা যায়নি বলে দাবি করলেও স্থানীয় সূত্রে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চারজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মৃতরা হলেন – তারাকান্দার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫), নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হাজেরা (৫০) এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পল্লী চিকিৎসক শাহজাহান ও নির্মাণ শ্রমিক রমজান।