Home খেলাধুলা ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার পাঁচে ৫

ইয়ামালের জোড়া গোলে বার্সার পাঁচে ৫

0


স্পোর্টস ডেস্ক

লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলে লেভান্তেকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ে লা লিগায় মৌসুমের শুরু থেকে টানা পাঁচ ম্যাচে শতভাগ সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে তারা।

ম্যাচের শুরুতেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন জাভি এসপার্ট। তার নেওয়া শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে এবং বিরতির পর গোল করে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। তার দ্বিতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা।

শেষ দিকে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লেভান্তে। বদলি খেলোয়াড় ইভান রোমেরো ও রজার ব্রুগের গোলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা করিম আদেয়েমি।

ম্যাচের আগে চার খেলায় মাত্র একটিতে জয় পাওয়া লেভান্তে ছিল পয়েন্ট তালিকার ১৪তম স্থানে। নিজেদের মাঠে তারা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পঞ্চম মিনিটেই এসপার্টের শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে গেলে প্রথম সুযোগেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।

এরপর বক্সের মধ্যে রাফিনহার বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ইয়ামাল। তবে বলটি এসপার্টের কাছে চলে যায় এবং তার নেওয়া পরের শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি লেভান্তের গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ান।

লেভান্তেও দ্রুত জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে। ভিক্তর গার্সিয়ার প্রায় ২৭ মিটার দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক সহজেই ঠেকিয়ে দেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। এরপর পেতার রাতকভের শট আটকে যায় এবং রজার ব্রুগের নেওয়া শটও রুখে দেন গোলরক্ষক।

তবে ১৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও গোল করে বার্সেলোনা। ফেরমিন লোপেসের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে রাফিনহার সামনে চলে যায়। তিনি গোলরক্ষক রায়ানকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামালের দিকে। ছয় গজ দূর থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ইয়ামাল।

দুই গোলের লিড পেলেও বার্সেলোনা তখনও নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। রক্ষণে কিছুটা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে মানু সানচেস পাউ কুবার্সিকে বল হারাতে বাধ্য করেন। এরপর গার্সিয়ার কাছে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। তবে গার্সিয়ার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আইসা মান্দির চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল বক্সের মধ্যে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের লিগ গোলের সংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান স্পেনের এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এরপর ব্যবধান কমানোর দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে লেভান্তে। জোয়ান গার্সিয়ার ভুল ক্লিয়ারেন্সের পর ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুগে। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ইভান রোমেরোর দুর্বল শট গোললাইন থেকে মাথা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা আন্দ্রেয়াস ক্রিস্তেনসেন।

রোমেরোর আরেকটি শটও আটকে দেন বার্সেলোনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে বার্সেলোনার বদলি আদেয়েমির নেওয়া ভলি শট নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকান রায়ান।

ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে লেভান্তের হয়ে একটি গোল শোধ করেন রোমেরো। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল ভুল করে নিজেদের বক্সের দিকে পাঠিয়ে দেন বার্সেলোনার এক খেলোয়াড়। সেই সুযোগে বল দখলে নিয়ে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে কাটিয়ে জালে পাঠান রোমেরো।

এরপর স্বাগতিকরা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৮৮ মিনিটে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৩-৪ করে ফেলেন ব্রুগে। তার প্রথম শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন জোয়ান গার্সিয়া। তবে ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয় চেষ্টায় জালে পাঠান ব্রুগে। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জমে ওঠে তীব্র উত্তেজনা।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন আদেয়েমি। দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। তার সেই গোলে শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।