Home খেলাধুলা হলান্ডের গোলে ১০ জনের দল নিয়েও ম্যানউকে হারাল সিটি

হলান্ডের গোলে ১০ জনের দল নিয়েও ম্যানউকে হারাল সিটি

0


স্পোর্টস ডেস্ক

আর্লিং হলান্ডের একমাত্র গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পরও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইউনাইটেড। বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্তে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।

রোববার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টারের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ১৯৯তম লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দল দুটি। পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো এই দ্বৈরথে জয়ের দেখা পেল এনজো মারেসকার অধীনে নতুন রূপ পাওয়া সিটি।

গ্রীষ্মে সিটিতে অনেক পরিবর্তন এলেও হালান্ড যেন আগের মতোই ইউনাইটেডের জন্য আতঙ্ক হয়ে রইলেন। এই ম্যাচে গোল করে ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল নয়টিতে। এর ফলে দুই দলের এই দ্বৈরথে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটিও এককভাবে দখল করলেন নরওয়ের এই তারকা।

তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দুটি সিদ্ধান্ত। ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানো এবং হালান্ডের গোল অনুমোদন দেওয়া—দুটিই জন্ম দিয়েছে বিতর্কের।

২৩ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের লাথির প্রতিক্রিয়ায় ফোডেন পা বাড়িয়ে দেওয়ায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার। মাঠে থাকা সিটির খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন। ভিডিও সহকারী রেফারি ম্যাথু ডনহিউও সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। ইউনাইটেড সমর্থকেরা তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন।

একজন বেশি নিয়ে খেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেনি ইউনাইটেড। মার্কাস রাশফোর্ড ও কোবি মাইনু গোলপোস্টে বল লাগালেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে রাশফোর্ডের দূরপাল্লার বাঁকানো ফ্রি-কিক নিচে নেমে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর বিরতির পর মাইনুর দুর্দান্ত বাঁকানো শটও সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে।

এরপর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। রাশফোর্ডের একটি শট সাইড নেটে লাগে। ব্রায়ান এমবেউমো ও মাতেউস কুনহাও চেষ্টা চালান। কিন্তু ম্যাচের ৬০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় সিটি।

লুক শয়ের অনুপস্থিতিতে আবারও বাম প্রান্তের রক্ষণে খেলছিলেন পাত্রিক দর্গু। তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে সিটি। এরপর ইয়োশকো গভারদিওলের বাড়ানো বল দূরের পোস্টে থাকা হলান্ডের দিকে যায়। পড়ে যেতে যেতে সেই বল জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড।

প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিলের সংকেত দেওয়া হয়েছিল। পরে দীর্ঘ সময় পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। এতে মাঠে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচকেন্দ্র জানায়, ভিডিও সহকারী রেফারি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে হলান্ড অফসাইড অবস্থানে ছিলেন না। একই সঙ্গে এনজো ফের্নান্দেস অফসাইড অবস্থানে থাকলেও তিনি বল খেলেননি বলেও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

গোলের পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সিটি। এনজো ফের্নান্দেসের প্রায় ১৮ মিটার দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় পোস্টে ঠেকিয়ে দেন ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন লামেন্স।

শেষ দিকে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ব্রুনো ফের্নান্দেস, এমবেউমো ও হ্যারি ম্যাগুয়ারে কয়েকটি চেষ্টা চালান। অন্যদিকে হালান্ডও অল্পের জন্য ব্যবধান বাড়াতে পারেননি।

যোগ করা সময়ের শেষদিকে এমবেউমোর নিশ্চিত মনে হওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। তার সেই সেভের পরই উল্লাসে মেতে ওঠে সিটির সমর্থকেরা। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে মারেসকা ছুটে যান সিটি সমর্থকদের দিকে।

এই হারে চার ম্যাচে ইউনাইটেডের পয়েন্ট দাঁড়াল মাত্র চার। ক্লাব পরিচালনার ধরন নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। টিকিট কালোবাজারি নিয়ে ক্লাবের কঠোর তদন্তেও ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা। ম্যাচ চলাকালে টানেলের ওপরে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আপনারা যেভাবে আমাদের সঙ্গে আচরণ করছেন, তা লজ্জাজনক’। সেই সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন স্যার জিম র‍্যাটক্লিফ ও আভরাম গ্লেজার।