বেয়াদবি-মাফ করবেন জনাব (!)
মিজানুর রহমান মিলটন।।
বয়সটা একেবারে কম হয়নি। জীবনের পাঁচ দশক পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই। এই দীর্ঘ ও বন্ধুর পথচলায় বহু মানুষকে দেখেছি, উপলব্ধি করেছি বহু বিচিত্র চরিত্র এবং প্রত্যক্ষ করেছি রাজনীতির জটিল সমীকরণে ক্ষমতার নাটকীয় উত্থান-পতন। দেখেছি কীভাবে ক্ষমতার দাপটে মানুষ সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যায়, আর তার বিপরীতে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব কতটা নির্মম হতে পারে। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বড় বড় চেয়ার কীভাবে মানুষকে রাতারাতি বদলে দেয়-আবার কখনো কখনো ক্ষমতার সেই মোহময় চেয়ারই মানুষের ভেতরের আসল অসভ্য ও নিষ্ঠুর চেহারাটা সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে উদাম করে দেয়।
স্কুলজীবন থেকেই সাংবাদিকতা পেশার প্রতি এক ধরনের আত্মিক ভালোবাসা ও ব্যাকুলতা জন্মেছিল। সেই অনুরাগ থেকেই কলেজজীবনের একদম শুরুতেই ‘সাপ্তাহিক সেবক’ পত্রিকার মাধ্যমে আমার সংবাদপত্রের পাতায় হাতেখড়ি। এরপর একে একে ‘দৈনিক প্রবাহ’, ‘দৈনিক অনির্বাণ’ এবং ‘এশিয়ান টেলিভিশন’-এ মাঠপর্যায়ে তীব্র অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
সাংবাদিকতার এই রোমাঞ্চকর পথচলার শুরুতে সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে অধ্যয়নকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। এরপর মহানগর ছাত্রদল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল হয়ে রাজপথের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার করে মূল দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার অবিচ্ছেদ্য পথচলা। এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক ও পেশাগতভাবে বহু কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। স্বৈরাচার ও শত্রুর অনেক রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে হয়েছে, সহকর্মীদের পাশে নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছি। ক্ষমতার দাপটে বলীয়ান অনেক প্রভাবশালী মানুষের পতন খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি। বড় বড় চেয়ারে বসা মানুষদের অতীত এবং বর্তমান সম্পর্কে পেশাগত অনুসন্ধানের স্বার্থে কমবেশি জানার অনন্য সুযোগ হয়েছে।
তবে এত কিছুর মাঝেও একটি মৌলিক নীতি ও আদর্শ আমার জীবনে কখনো বদলায়নিÑতা হলো বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার এবং সত্য প্রকাশে নির্ভীক অবস্থান।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের খাতিরে খুলনার বহু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, উদীয়মান পাতি নেতা কিংবা আঞ্চলিক পরাশক্তিদের কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে আমাকে কলম ধরতে হয়েছে। সেই খবর কখনো কারও রাজনৈতিক স্বার্থের পক্ষে গেছে, আবার কখনো বা অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচন করে কারও শক্ত অবস্থানের বিরুদ্ধে গেছে। যাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখেছি, তাদের অনেকেই হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, মানসিকভাবে রুষ্ট হয়েছেন; কিন্তু অন্তত ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেমে গালাগালি, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বীরদর্পে হুমকির কুরুচিপূর্ণ আশ্রয় নেননি। বরং সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সত্যকে মেনে নিয়ে তাদের অনেকের সঙ্গেই পেশাগত ও সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে।
কারণ রাজনীতি মানে কেবলই ক্ষমতার অন্ধ দাপট দেখানো নয়। রাজনীতি মানে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, গণমানুষের পালস বোঝা। রাজনীতি মানে অপরিসীম সহনশীলতা প্রদর্শন করা এবং ভিন্নমত ও সমালোচনাকে উদারচিত্তে সম্মান জানানো। আর সর্বোপরি, রাজনীতির মূল ভিত্তিই হলো সভ্যতা, সংযম ও সামাজিক শিষ্টাচার।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে খুলনার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছ থেকে যে ধরনের নোংরা, অশালীন ভাষা এবং পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ হুমকির মুখোমুখি আমাকে হতে হয়েছেÑতা আমার দীর্ঘ পাঁচ দশকের জীবন এবং বহু বছরের সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে এক নতুন ও তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি ফোনে কী বলেছেন, কীভাবে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে শাসিয়েছেনÑতার যাবতীয় প্রমাণ ও অডিও রেকর্ড আমার সংগ্রহে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে।
আজকে পত্রিকায় নাম উচ্চারণ করে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সমাজে ছোট করা আমার মূল উদ্দেশ্য নয়। কারণ আমার শিক্ষা ও নীতি আমাকে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা কাদা ছোড়াছুড়ির অনুমতি দেয় না। আমার উদ্দেশ্য কেবল একটি মৌলিক প্রশ্ন সমাজের সচেতন নাগরিক ও রাজনীতিকদের সামনে তুলে ধরাÑএকজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যবহৃত ভাষা এবং তাঁর আচার-আচরণ ঠিক কেমন হওয়া উচিত?
গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদের সমালোচনা থাকলে তা খণ্ডন করতে হয় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও যুক্তি দিয়ে। সংবাদে কোনো তথ্যগত ভুল বা অসংগতি থাকলে সভ্য উপায়ে লিখিত প্রতিবাদ পাঠাতে হয়। এমনকি কোনো প্রতিবেদনে অতিমাত্রায় আপত্তি থাকলে দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেওয়ার উন্মুক্ত পথ রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্য গালাগালি করা, পেশি শক্তির ভয় দেখানো কিংবা গুম-খুনের হুমকি দেওয়া কি কোনো উন্নত সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে? আমার উত্তরÑকখনোই না।
রাজনীতিতে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকবেই। সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে রাজনৈতিক নেতার চিন্তার অমিল হওয়াটাই স্বাভাবিক গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো কারও পক্ষ নেবেন, কখনো বা বস্তুনিষ্ঠ সত্য তুলে ধরতে গিয়ে কারও বিপক্ষে চলে যাবেনÑএটাই সংবাদপত্রের চিরন্তন নিয়ম। কিন্তু ভিন্নমত পোষণ করা মানেই তো অন্ধ শত্রুতা নয়!
আজ একজন সাংবাদিককে গালি দেওয়া কিংবা ক্ষমতার দাপটে হুমকি দেওয়া খুবই সহজ কাজ। কিন্তু ওই চোখরাঙানির পেছনে যে একটি অসহায় পরিবার দাঁড়িয়ে আছে, হুমকির মুখে একটি গোটা পরিবারের স্বপ্ন ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়Ñসেই কথা কি আমরা ক্ষমতার মদে মত্ত হয়ে একবারও চিন্তা করি?
ওই নেতার ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাসী হামলায় যদি কাল আমি প্রাণ হারাই কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করিÑতবে হয়তো সাংবাদিক সহকর্মীরা একটি সুন্দর শোকবার্তা দেবেন। হয়তো প্রেসক্লাবে একটি স্মরণসভা আয়োজন করে চটকদার বক্তৃতা দেওয়া হবে। হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন আমাকে নিয়ে লেখালেখি ও তীব্র প্রতিবাদ চলবে। তারপর সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে নতুন কোনো আলোচনার ভিড়ে সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে হারিয়ে যাবে।
কিন্তু আমার সেই পরিবারের কী হবে? আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপস্থিতি কি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শোকবার্তা দিয়ে কোনোদিন মেটানো সম্ভব? কোনো আবেগঘন স্মরণসভা কি আমার সন্তানের চিরদিনের শূন্যতা ও হাহাকার একবিন্দুও পূরণ করতে পারবে? কোনোদিন পারবে না।
একটি সুপরিচিত বাংলা প্রবাদ আছেÑ‘অবৈধ অস্ত্র আর অবৈধ অর্থ-সম্পদের শক্তির বিকৃত প্রকাশ একসময় মারাত্মক বিস্ফোরণের মতোই ঘটে।’ অর্থ, ক্ষমতা কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক পদের দাপট যেন কোনো মানুষকে এই ভুল ধারণায় চালিত না করে যে, তিনি সমাজের আইনের ঊর্ধ্বে এবং যা খুশি তা-ই বলতে বা করতে পারেন।
মনে রাখা উচিত, একটি পদ বা সরকারি-রাজনৈতিক চেয়ার কখনো কোনো সাধারণ মানুষকে মহান করে তোলে না। মানুষ তার নিজস্ব প্রজ্ঞা, সততা, মার্জিত আচরণ ও মহৎ কর্ম দিয়ে সেই চেয়ারটিকে সম্মানিত করে। যার যে পদের ন্যূনতম যোগ্যতা ও মানসিক পরিপক্কতা নেই, তাকে ভুল করে সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসালে তিনি নিজে তো হাস্যাস্পদে পরিণত হনইÑএকই সাথে সেই ঐতিহাসিক চেয়ারটির মর্যাদা ও সম্মান ধূলায় মিশিয়ে দেন।
নেতৃত্বের দায়িত্ব যত বড়, তাঁর প্রতিটি উচ্চারিত কথা ও আচরণগত দায়বদ্ধতা ততটাই গুরুভার। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা অত্যন্ত প্রকট। একজন সাধারণ মানুষের মুখের অসভ্য বা অশালীন কথা হয়তো কেবল তার নিজের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যেই প্রভাব ফেলে। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতিটি পদক্ষেপ, কথা ও মনোভাব তাঁর হাজার হাজার অনুসারী কর্মী অন্ধভাবে অনুসরণ করে। নেতার মুখের বিকৃত ভাষাই পরবর্তীতে কর্মীদের ভাষায় রূপ নেয় এবং তাঁর কুরুচিপূর্ণ আচরণই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।
তাই যেকোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রথম ও প্রধান পাঠ হওয়া উচিতÑসভ্যতা ও আত্মসংযম।
ক্ষমতার জোর থাকলে হয়তো সাময়িকভাবে মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিত রাখা যায়; কিন্তু মন থেকে প্রকৃত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আদায় করা যায় না। অর্থ দিয়ে পৃথিবীর অনেক দামি বস্তু কেনা সম্ভব হতে পারে; কিন্তু সাধারণ মানুষের নিখাদ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। দলীয় পদ-পদবি থাকলে কর্মীদের হুকুম দেওয়া যায়; কিন্তু মানুষের হৃদয়ের গহীনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে হয় কেবল মার্জিত আচরণ, শালীনতা ও ভালোবাসা দিয়ে।
আমি আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও রাজপথের রাজনৈতিক জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি, আবার সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মানও অপরিসীম পেয়েছি। কিন্তু জীবনের এই প্রান্তে এসে একটি অমূল্য জিনিস আমি কোনো মূল্যে হারাতে চাই নাÑতা হলো আমার আত্মসম্মানবোধ।
আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমি ব্যক্তিগতভাবে কারও শত্রু নই। আমি সংবাদ লিখি, মত প্রকাশ করি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলিÑকারণ এটিই আমার রুটি-রুজির পেশা, এটিই দেশ ও সমাজের প্রতি আমার পবিত্র নাগরিক দায়িত্ব। আমার প্রকাশিত কোনো সংবাদে ভুল থাকলে শতবার তা সংশোধন করব, তথ্যগত ত্রুটি থাকলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইব। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখার কারণে যদি পেছন থেকে গালাগালি কিংবা হত্যার হুমকি আসে, তবে সেখানে ভয়ে নীরবতা পালন করাও এক ধরণের চরম অপরাধ ও অন্যায়।
তাই আজকের এই বিশেষ কলামটি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা কিংবা রাজনৈতিকভাবে ছোট করার জন্য লেখা নয়। বরং একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, একজন সচেতন নাগরিক এবং একই দলের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সমাজের পরাশালীদের প্রতি কেবল একটি বিনীত অনুরোধÑজনাব, রাগ করবেন না। আমার এই স্পষ্ট কথায় আপনার অহংকারে আঘাত লাগলে বা বেয়াদবি মনে হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
তবে মনে রাখবেন, রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ও সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস যদি সাধারণ জনগণ হয়ে থাকে, তবে সেই জনগণের সামনে একজন নেতার সবচেয়ে বড় ভূষণ ও অলংকার হওয়া উচিত তাঁর ব্যক্তিগত সভ্যতা, আত্মসংযম ও শিষ্টাচার।
আজকের এই ক্ষমতার দাপট একদিন থাকবে না। সময়ের আবর্তে চেয়ার বদলাবে, পদের পরিবর্তন ঘটবে, দেশের দৃশ্যপট পাল্টাবে। কিন্তু ইতিহাস ও মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল রয়ে যাবে আপনার আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ স্মৃতির ছাপ। তাই ক্ষমতার দাপটে হুমকি দেবেন নাÑবরং সত্য তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করুন। অশালীন গালাগালি করবেন নাÑগঠনমূলক জবাব দিন। ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা করবেন নাÑশ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জন করুন। আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা ও উদারতা প্রদর্শন করুন।
কারণ একজন সত্যিকারের কালজয়ী রাজনৈতিক নেতা তাঁর প্রতিপক্ষকে ক্ষমতার জোরে পরাজিত করে বড় হন না; তিনি তাঁর সুমহান আচরণ, শালীনতা ও মানবতা দিয়ে নিজেকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় উচ্চতায় নিয়ে যান।
আর পরিশেষে মনে রাখবেন, একজন সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে, মামলা দিয়ে বা কলম স্তব্ধ করে হয়তো একটি নির্দিষ্ট দিনের সংবাদ সাময়িকভাবে চেপে রাখা যায়, কিন্তু ইতিহাসের শাশ্বত সত্যকে কখনোই চিরতরে থামিয়ে রাখা যায় না। ( লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক খুলনাঞ্চল)











































