Home আলোচিত সংবাদ পাঁচটি চিঠি, একটি মৃত্যু এবং সাংবাদিক সমাজের নীরব দায়

পাঁচটি চিঠি, একটি মৃত্যু এবং সাংবাদিক সমাজের নীরব দায়

6


মিজানুর রহমান মিলটন।।


কিছু মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; কিছু মৃত্যু সমাজের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে। বরিশালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু তেমনই একটি ঘটনা। একটি কর্মজীবনের সমাপ্তি, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা, পেশাগত অনিশ্চয়তা, পাওনা অর্থের প্রত্যাশা, পরিবার নিয়ে উদ্বেগ-সবকিছুর ছায়া তাঁর রেখে যাওয়া পাঁচটি চিঠিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


শুক্রবার (১১সেপ্টেম্বর) বরিশালে দৈনিক সমকালের ব্যুরো কার্যালয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না; বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পেশাজীবী মহলে তাঁর পরিচিতি ছিল। দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা করেছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছেন, সংবাদপত্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিই লিখে গেলেন পাঁচটি চিঠি। একটি নিজের মৃত্যুর বিষয়ে। একটি স্ত্রী ও একমাত্র কন্যার উদ্দেশে। একটি ছোট ভাইকে। একটি সাবেক কর্মস্থলের ব্যুরো প্রধানকে। আরেকটি বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে। চিঠিগুলো পড়লে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো-মৃত্যুর মুহূর্তেও তিনি নিজের চেয়ে বেশি চিন্তা করেছেন অন্যদের। স্ত্রী ও মেয়েকে ক্ষমা চেয়েছেন। মেয়েকে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ছোট ভাইকে পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। সহকর্মীকে বিব্রত করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সাবেক কর্মস্থলে তাঁর পাওনা অর্থ পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন। এই কয়েকটি চিঠি তাই শুধু ব্যক্তিগত বিদায়ের দলিল নয়; এগুলো আমাদের সামনে রেখে যায় একাধিক সামাজিক প্রশ্ন।


এ ধরনের মৃত্যুর পর আমরা সাধারণত একটি প্রশ্ন করি-কেন এমন হলো? কিন্তু আরও জরুরি প্রশ্ন হলো-একজন মানুষ কতদিন ধরে কষ্টের মধ্যে ছিলেন? কতদিন ধরে তিনি অসুস্থতা, একাকিত্ব, অনিশ্চয়তা কিংবা আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়ছিলেন? তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ বা প্রতিষ্ঠান কতটা সক্রিয় ছিল? পুলক চ্যাটার্জির চিঠিতে শারীরিক অসুস্থতার কথা এসেছে। জানা গেছে, সুস্থ হওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, দেশের বাইরেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। অর্থাৎ অসুস্থতা তাঁর জন্য সাময়িক কোনো অস্বস্তি ছিল না; দীর্ঘদিনের এক বাস্তবতা ছিল।


অসুস্থ শরীর যখন একজন কর্মজীবী মানুষের পেশাগত সক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়, তখন সমস্যা শুধু শরীরে থাকে না। আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগে, সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়, কর্মক্ষেত্র থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। আর সাংবাদিকতার মতো পেশায়, যেখানে প্রতিদিন ছুটতে হয় খবরের পেছনে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা একজন মানুষের পেশাগত অস্তিত্বকেও কঠিন করে তুলতে পারে। তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় চাকরি হারানোর ধাক্কা, অনিশ্চিত আয় এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা-তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা জরুরি-তাঁর মৃত্যুর পেছনে ঠিক কোন কারণ কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়। তাঁর চিঠিতে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো তাঁর নিজের বক্তব্য। সেগুলোকে সম্মান করে, কিন্তু দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করাই সাংবাদিক সমাজের কর্তব্য। সাংবাদিকের পরিচয়ের আড়ালে একজন মানুষ থাকেন।। আমরা সাংবাদিকদের অনেক সময় শুধু পেশাগত পরিচয়ে দেখি।

অমুক রিপোর্টার, অমুক ব্যুরো প্রধান, অমুক প্রেস ক্লাব নেতাÑপরিচয়গুলো আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিটি পরিচয়ের আড়ালে একজন মানুষ আছেন। তাঁর পরিবার আছে, ভয় আছে, অসুস্থতা আছে, আর্থিক সংকট আছে, অভিমান আছে, অপূর্ণতা আছে। একজন সাংবাদিক সারাদিন অন্যের দুঃখের খবর লিখতে পারেন। কিন্তু নিজের দুঃখের খবরটি হয়তো কাউকে বলতে পারেন না। এখানেই আমাদের পেশার একটি বড় সংকট। সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, দুর্নীতির অনুসন্ধান করে, মানুষের অধিকার নিয়ে লেখে। কিন্তু সাংবাদিক নিজেই যখন অসুস্থ হন, চাকরি হারান, আর্থিক সংকটে পড়েন কিংবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন-তখন তাঁকে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কাঠামো কতটা কার্যকর? এই প্রশ্নটি এখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।


একজন সাংবাদিকের চাকরি চলে গেলে সংবাদপত্রের হিসাবের খাতায় হয়তো একটি পদ খালি হয়। প্রতিষ্ঠানের কাছে সেটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের অন্য প্রান্তে একটি পরিবার থাকে। বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, দৈনন্দিন ব্যয়Ñসবকিছুই চলতে থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা একজন সাংবাদিক হঠাৎ কর্মহীন হলে তাঁর জন্য নতুন করে পেশাগত জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। বয়স বাড়ে, শারীরিক সক্ষমতা কমে, যোগাযোগের পরিধি বদলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো পরিচিতির ওপর নির্ভর করেই জীবন চলতে থাকে। পুলক চ্যাটার্জির ক্ষেত্রে তাঁর সাবেক সহকর্মীর বক্তব্য থেকে জানা যায়, চাকরি চলে যাওয়ার পরও তিনি মাঝে মাঝে পুরোনো অফিসে যেতেন, সময় কাটাতেন, পত্রিকা পড়তেন। এই তথ্যটুকু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একটি কর্মস্থল একজন সাংবাদিকের কাছে শুধু বেতন পাওয়ার জায়গা নয়। সেখানে তাঁর স্মৃতি থাকে, সহকর্মী থাকে, পরিচয় থাকে, জীবনের দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক থাকে। কর্মজীবন শেষ হয়ে গেলে সেই জায়গা থেকে মানুষটি যদি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তার মানসিক অভিঘাতও কম নয়।


সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়গুলোর একটি হলো, শেষ চিঠির একটিতে তিনি সাবেক কর্মস্থলে পাওনা অর্থ পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এই জায়গায় এসে সাংবাদিকতা পেশার অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা জরুরি। একজন সাংবাদিকের বেতন, বকেয়া, চাকরির নিরাপত্তা, অবসর-পরবর্তী সুবিধা কিংবা অন্যান্য পাওনা-এসব কোনো অনুগ্রহ নয়। এগুলো শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্য অধিকার। কোনো সাংবাদিক কর্মজীবন শেষ করার পর তাঁর পাওনা নিয়ে যদি অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়, সেটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির বিষয়।


প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের উচিত সাবেক কর্মীদের পাওনা নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থা রাখা। চাকরি শেষ হওয়ার পর একজন সাংবাদিক যেন বছরের পর বছর নিজের পাওনা আদায়ের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরতে না হয়-এটি নিশ্চিত করা জরুরি।
চিঠিগুলোর ভাষায় একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছেÑপরিবার। স্ত্রী। কন্যা। ছোট ভাই। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তেও তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে ছিল পরিবার। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সাধারণত পরিবার। কিন্তু পরিবার সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, আর্থিক সংকট, কর্মহীনতা কিংবা গভীর মানসিক চাপের ক্ষেত্রে পরিবারের পাশাপাশি চিকিৎসক, বন্ধু, সহকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও প্রয়োজন। কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে গুটিয়ে নেন, নিয়মিত যোগাযোগ বন্ধ করেন, আচরণে বড় পরিবর্তন আসে, অসুস্থতা নিয়ে হতাশার কথা বলেন কিংবা নিজের জীবন নিয়ে চরম হতাশার ইঙ্গিত দেনÑতখন সেটিকে ‘ব্যক্তিগত ব্যাপার’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। একটি ফোনকল, একটি সাক্ষাৎ, পাশে বসে কিছুক্ষণ কথা বলাÑকখনো কখনো মানুষের কাছে এগুলোও বড় সহায়তা হতে পারে।


অবশ্যই প্রয়োজন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিদিন দুর্ঘটনা, মৃত্যু, সহিংসতা, অপরাধ, রাজনৈতিক সংঘাত, নির্যাতন এবং মানুষের অসহায়ত্বের মুখোমুখি হন। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করতে করতে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার ওপর চাকরির অনিশ্চয়তা, কম বেতন, কর্মঘণ্টার চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পেশাগত প্রতিযোগিতা যোগ হলে চাপ আরও বাড়ে। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সংস্কৃতি এখনও দুর্বল। কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তাকে সাহায্য করার বদলে অনেক সময় বলা হয়-‘শক্ত হও’, ‘সবাই তো কষ্ট করছে’, ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে।’ সবসময় ঠিক হয় না।

কখনো পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন হয়। কখনো কাউন্সেলিং প্রয়োজন হয়। কখনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন হয়। আর কখনো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়-একজন মানুষকে বিচার না করে তার কথা শোনা। সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেস ক্লাব, সংবাদপত্র মালিক ও সম্পাদকদের উদ্যোগে সাংবাদিকদের জন্য গোপনীয় কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অসুস্থ ও কর্মহীন সাংবাদিকদের জন্য সহায়তা তহবিল গঠন করা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। এসব বিলাসিতা নয়। এগুলো একটি মানবিক পেশার ন্যূনতম সুরক্ষা।


কোনো সাংবাদিক মারা গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় শোকবার্তায়। ‘অমায়িক মানুষ ছিলেন।’ ‘দক্ষ সাংবাদিক ছিলেন।’ ‘ভালো মানুষ ছিলেন।’ ‘তাঁর মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।’ তারপর কয়েকদিন পর সবকিছু থেমে যায়। কিন্তু একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর যদি আমরা শুধু শোক জানিয়ে থেমে যাই, তাহলে সেই মৃত্যু থেকে সমাজ খুব বেশি কিছু শেখে না। পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে ঘিরে তাই সাংবাদিক সমাজের সামনে কয়েকটি বাস্তব প্রশ্ন থাকা উচিতÑ সাংবাদিক অসুস্থ হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কোথায়? চাকরি হারালে দীর্ঘদিনের কর্মীর জন্য কোনো পুনর্বাসন বা সহায়তা আছে কি? সাংবাদিকের পাওনা অর্থ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?


বয়োজ্যেষ্ঠ ও কর্মহীন সাংবাদিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কতটা আছে? মানসিক চাপ ও সংকটে থাকা সাংবাদিকের জন্য গোপনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা আছে কি? প্রেস ক্লাবগুলো কি শুধু সভা-সমাবেশ আর নির্বাচনকেন্দ্রিক থাকবে, নাকি সদস্যদের বিপদে বাস্তব সহায়তার জায়গাও হয়ে উঠবে? সংবাদমাধ্যমগুলো কি কর্মীদের মানুষ হিসেবে দেখবে, নাকি কেবল একটি পদ ও বেতন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে।


পুলক চ্যাটার্জির রেখে যাওয়া চিঠিগুলোকে তাঁর মৃত্যুর রোমাঞ্চকর বিবরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এগুলোকে আত্মহত্যার কোনো অনুকরণীয় বা আবেগঘন গল্প হিসেবেও উপস্থাপন করা উচিত নয়। বরং এগুলোকে দেখতে হবে একজন অসুস্থ, বিপর্যস্ত মানুষের রেখে যাওয়া সতর্কসংকেত হিসেবেÑযে সংকেত আমাদের পেশা, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের দুর্বল জায়গাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর পরিবার এখন শোকের মধ্যে। তাঁদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। তাঁর রেখে যাওয়া চিঠির ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও অযথা প্রচার না করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অনুসরণ করা উচিত। আর সাংবাদিক সমাজের জন্য এই মৃত্যু হোক আত্মসমালোচনার একটি উপলক্ষ।

আমরা যারা প্রতিদিন অন্যের গল্প লিখি, তাদের নিজেদের গল্পটিও শুনতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়াতে হবে। কেউ কর্মহীন হলে খোঁজ নিতে হবে। কেউ পাওনা নিয়ে সমস্যায় পড়লে তাকে একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কেউ দীর্ঘদিন যোগাযোগহীন থাকলে ফোন করতে হবে। কেউ ভেঙে পড়লে তাকে দুর্বল না বলে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার ভবন, মেশিন কিংবা ব্র্যান্ড নয়-তার মানুষ। পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু আমাদের সামনে সেই সত্যটিই আবার নির্মমভাবে তুলে ধরেছে। পাঁচটি চিঠি তিনি রেখে গেছেন। এখন আমাদের কাজ-সেই পাঁচটি চিঠির ভেতরের আর্তিকে যেন আমরা ষষ্ঠ একটি নীরব চিঠিতে পরিণত না করি।