খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা রঙের মাছ। লাল, নীল, কমলা, কালো, বাদামি, হলুদ রঙের মাছের ছড়াছড়ি। ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, গাপ্পি, মলি, প্লাটি ও জেব্রা প্রভৃতি মাছ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। এসব মাছ বাসাবাড়ির অ্যাকুরিয়ামে শোভা পেয়ে থাকে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ (২২) এসব রঙিন মাছ চাষ করেছেন। এ রঙিন মাছ চাষে ভাগ্য বদলেছে তার।
বর্তমানে ৫৬টি হাউজ ও পুকুরে প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ ও প্রজনন করছেন। শখের বশে বাড়ির উঠানে দুটি রঙিন মাছ দিয়ে শুরু। আট বছরের পরিশ্রমে সেই শখ এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক উদ্যোগে।
আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় আট বছর আগে শখ থেকে দুটি রঙিন মাছ সংগ্রহ করেন তিনি। ধীরে ধীরে মাছের সংখ্যা ও প্রজাতি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে লক্ষাধিক রঙিন মাছের পোনা রয়েছে। ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, গাপ্পি, মলি, প্লাটি ও জেব্রাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে তার প্রকল্পে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি করেন তিনি। এতে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আয়ও হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শখ থেকে দুটি মাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তখন ভাবিনি এটি একদিন আয়ের অন্যতম উৎস হবে। এখন এটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছি।
তার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার প্রায় এক ডজন তরুণও রঙিন মাছ চাষ শুরু করেছেন। আরেক উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদ বলেন, বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে রঙিন মাছ চাষ করে তরুণরা আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, অল্প জায়গায় রঙিন মাছ চাষ সম্ভব এবং এর বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে তরুণরা এ চাষে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। আব্দুল্লাহর উদ্যোগ অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।










































